ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম

ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম

বইখানা ১৯৩৪ সালে লেখা । আমি ইতিপূর্বে বইখানা ৪/৫ বার পড়েছি। ইসলামের উপর আমার জীবনে পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বইয়ের একটি হবে এই বইটি। এই বইয়ে বহু প্যারাগ্রাফ আছে, যা থেকে কোন বুদ্ধিদীপ্ত পাঠক চাইলেই একটা গোটা পুস্তক রচনা করতে পারবেন অনায়াসে। কোন "ইসলামী ভাব সম্প্রসারণের" আয়োজনে, চাইলে, এই বইটির শত শত বাক্যকে ব্যবহার করা যেত। আমি নিশ্চিত জানি না, তবু আন্দাজ করতে পারি - এতদিনে বাংলায় এর অনুবাদও নিশ্চয়ই হয়েছে। তবু সামষ্টিক পাঠে আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে গিয়ে, আমার কি অনুভূতি হলো তা আপনাদের সাথে শেয়ার করার অদম্য বাসনা থেকে এই সিরিজ পোস্টে হাত দেয়া...
মুসলিম জীবনে ‘সময়’

মুসলিম জীবনে ‘সময়’

..গোটা জীবনের ১/৬-এর সমতুল্য অতিরিক্ত ‘অবসর সময়’ বেরিয়ে আসছে, যা ৫৭ বছরের আয়ুষ্কালের ১৬.৬৭%। আমরা যদি বিশ্বাস করতাম যে, আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল আল্লাহর ইবাদত করার জন্য, তাহলে, সময়ের এই বিশাল সাশ্রয়কে আমরা আল্লাহর পছন্দনীয় কাজে ব্যয় করতাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আমরা সাশ্রয়কৃত ঐ সময়কে সিগারেট ফুঁকা, ক্রিকেট খেলা দেখা, ভিডিও গেম খেলা, ইন্টারনেটে পর্ণোগ্রাফিক সামগ্রী উপভোগ করা, বা সিনেমা-নাটক দেখা ইত্যাদির মত ‘মহৎ’ কাজে ব্যয় করে এমন ব্যস্ততার ভান করছি যে, সময়ের অভাবে আমরা দ্বীনের দু’টো কথা শোনা বা কি করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়...
পেশা ও ইসলাম: কিভাবে সঠিক সমন্বয় সাধন করতে হবে

পেশা ও ইসলাম: কিভাবে সঠিক সমন্বয় সাধন করতে হবে

...দুনিয়ার জন্য এবং আখেরাতের জন্য কর্মকান্ডের উদ্দেশ্যে সময় বন্টন তাহলে এই পর্যাপ্তকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হতে হবে। পর্যাপ্তের বাইরে সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে আমরা যে কেউ যখন সময় ব্যয় করব, তখন আমাদের ভাবতে হবে আমরা কিসের পরিবর্তে কি বেছে নিচ্ছি বা কিসের বিনিময়ে কি trade করছি। আপনি সময় না দেয়াতে আপনার ছেলে বা মেয়েটি যে বিপথগামী হচ্ছে – সেই ক্ষতিটার বিনিময়ে আপনি অন্যত্র সময় দেয়াতে যে বাড়তি ঐশ্বর্য লাভ করেছেন, সেটা worth কিনা তা ভেবে দেখা জরুরী। কারণ, আপনার সন্তানকে আপনি একজন পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হিসেবে বড় করতে না পারলে, আখিরাতে আল্লাহর কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে...

কান্না!

রাস্তার পাশে দাড়ানো একটা শিশুকে দেখুন - ক্ষুধার্ত, কাঁদছে, কাঁদতে কাঁদতে চেহারাটা তার মলিন হয়ে গেছে। একটু খাবার চাই। কখন যে একটু পেট ভরে খেতে পারবো এই আকাঙ্খা তার মনে ঘুরপাক খায়। এবার চলুন ফ্ল্যাট বাসাগুলোতে যাই! শিশুর মা শিশুকে খাওয়ানো জন্য কত ফন্দি ফিকির করছে! শিশুটির মুখের সামনে কত মুখরোচক খাবার। কিন্তু শিশুটি কাঁদছে, সে খেতে চায় না! একজন কাঁদছে খাবার না পেয়ে আর অন্যজন কাঁদছে খাবার পেয়ে!!! যে শিশুটি খাবার পেয়েও কাঁদছে তার খাবারটুকু যদি যে খাবার পায় না তাকে দেওয়া যায় তাহলে ভারসাম্যটা রক্ষা হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে চলছে উল্টো…continue reading →
ইসলামী জ্ঞান অর্জনে আগ্রহীদের জ্ঞাতব্য

ইসলামী জ্ঞান অর্জনে আগ্রহীদের জ্ঞাতব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু ‘আলাইকুম![এই পোস্টটি কেবল বিশ্বাসী মুসলিমদের কিছু কথা মনে করিয়ে দিতে লেখা]আমরা অনেকেই ব্লগে নিজেদের আগমন ও অংশগ্রহণের কারণ বণর্না করতে গিয়ে বলে থাকি যে, জ্ঞান অর্জন হচ্ছে আমাদের এখানে আসার একটা মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু আসলেই কি তাই? আমরা অনেক সময় এমনও বলে থাকি যে, আমরা ইসলাম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতেই মূলত ইন্টারনেটে বিচরণ করি বা ইন্টারনেট ব্যবহার করি অথবা ব্লগিং করি। আসুন জ্ঞান অর্জন সংক্রান্ত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ের আলোকে, আমরা নিজেদের জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারটা একটু পরখ করে দেখি: ১. দ্বীন ইসলামের জ্ঞান অর্জন ইবাদত ৷ আর…continue reading →

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন: মুসলিমদের করণীয়

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন: মুসলিমদের করণীয় - ১ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ভূমিকা নববর্ষ, বর্ষবরণ, পহেলা বৈশাখ - এ শব্দগুলো বাংলা নতুন বছরের আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে। এই উৎসবকে প্রচার মাধ্যমসমূহে বাঙালির ঐতিহ্য হিসেবে রঞ্জিত করা হয়ে থাকে। তাই জাতিগত একটি ঐতিহ্য হিসেবে এই উৎসবকে এবং এর সাথে সম্পৃক্ত কর্মকান্ডকে সমর্থন যোগানোর একটা বাধ্যবাধকতা অনুভূত হয় সবার মনেই - এ যে বাঙালি জাতির উৎসব! তবে বাংলাদেশে বসবাসরত বাঙালি জাতির শতকরা ৮৭ ভাগ লোক আবার মুসলিমও বটে, তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে: নববর্ষ উদযাপন এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানাদি যেমন: রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে বর্ষবরণ, বৈশাখী মেলা, রমনার বটমূলে পান্তা-ইলিশের ভোজ, জীবজন্তু ও রাক্ষস-খোক্কসের প্রতিকৃতি নিয়ে গণমিছিল - এবং এতদুপলক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, হাসিঠাট্টা ও আনন্দ উপভোগ, সাজগোজ করে নারীদের অবাধ বিচরণ ও সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, সহপাঠী সহপাঠিনীদের একে অপরের দেহে চিত্রাংকন - এসবকিছু কতটা ইসলাম সম্মত? ৮৭ ভাগ মুসলিম যে আল্লাহতে বিশ্বাসী, সেই আল্লাহ কি মুসলিমদের এইসকল আচরণে আনন্দ-আপ্লুত হন, না ক্রোধান্বিত হন? নববর্ষকে সামনে রেখে এই নিবন্ধে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। (more…)

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ উদযাপন: মুসলিমদের করণীয়

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ উদযাপন: মুসলিমদের করণীয় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ভূমিকা নববর্ষ বা New Year's day – এই শব্দগুলো নতুন বছরের আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে। এতদুপলক্ষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, হাসিঠাট্টা ও আনন্দ উপভোগ, সাজগোজ করে নারীদের অবাধ বিচরণ ও সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, রাতে অভিজাত এলাকার ক্লাব ইত্যাদিতে মদ্যপান তথা নাচানাচি, পটকা ফুটানো – এই সবকিছু কতটা ইসলাম সম্মত? ৮৭ ভাগ মুসলিম যে আল্লাহতে বিশ্বাসী, সেই আল্লাহ কি মুসলিমদের এইসকল আচরণে আনন্দ-আপ্লুত হন, না ক্রোধান্বিত হন ? নববর্ষকে সামনে রেখে এই নিবন্ধে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে । (more…)

রামাদানে রোজা রাখা

রামাদানে রোজা রাখা -১ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু আলাইকুম রামাদানে রোজা রাখা – ইসলামের ৫টি স্তম্ভের একটি। আমরা ইনশা’আল্লাহ্ কয়েকটি পোস্টে এই ব্যাপারটা বিস্তারিত আলাপ করবো। তবে, আজ শুধু দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত, সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলবো। রামাদানের পবিত্রতা রক্ষা করুন” বলে একটা স্লোগান প্রায়ই শোনা যায় বা এই লেখা সম্বলিত ব্যানারও প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এটা হালে কেবল একটা ”বাম্পার স্টিকার” বা সুন্দর বাক্যের স্টিকারে পরিণত হয়েছে। রামাদানে আসলে একমাসের “পবিত্রতা রক্ষার” যে প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলন হয় (বা হবার কথা), তাই দিয়ে গোটা বছর সুন্দর, সুস্থ ও পবিত্র একটা জীবন যাপন করার ইচ্ছা হবার কথা এবং সে অনুযায়ী চেষ্টা করারও কথা। কিন্তু আমরা কি ব্যাপারগুলো বুঝি বা সেসব নিয়ে চিন্তা করি? আমাদের, বিশেষত, নাগরিক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর উপর, রামাদানের প্রভাব কতটুকু? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে রামাদানের শেষে ঈদ উপলক্ষে নির্মিত ছায়াছবি, টেলিফিল্ম, বিশেষ নাটক, বিনোদোন অনুষ্ঠান ইত্যদির দিকে তাকিয়ে দেখাই যথেষ্ঠ। সেভাবে দেখলে, রামাদানকে, অশ্লীলতার “দৌড় প্রতিযোগীতা” শুরু হবার ঠিক আগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, জিরিয়ে নেয়ার সময় বলে মনে হতে পারে। (more…)

আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন! -১

আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন! -১ আস সালামু ‘আলাইকুম! যে কোন অনুশীলনরত মুসলিমের কাছে তো বটেই, এমন কি নামমাত্র মুসলিম বলে আখ্যায়িত করা যায় এমন কারো কাছেও “আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন?” এমন একটা প্রশ্ন, প্রাথমিক পর্যায়ে অবান্তর মনে হতে পারে। অনেকেই বলবেন যে, “মাদার ন্যাচার”, প্রকৃতি বা নিয়তি – এমন শব্দাবলীর আড়ালে বহু বস্তুবাদী বা মানবতাবাদীও আসলে আল্লাহর অস্তিত্বই স্বীকার করে থাকেন। তা সত্ত্বেও প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্যই তা সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমরা ভেবে দেখি কেন? (more…)

ইসলামে নারীর অধিকারও ও মর্যাদা

আস সালামু আলাইকুম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম মূল বক্তব্যে যাবার আগে অধিকারমর্যাদা শব্দ দু'টিকে একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন ৷ অধিকার’ শব্দটিকে ইসলামী স্কলাররা সবসময় আরেকটি শব্দের সাথে সম্পৃক্ত বলে সনাক্ত করেছেন - সেটা হচ্ছে দায়িত্ব’৷ ইসলামী জীবনবিধান ও worldview-তে তাই যেখানেই অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই দায়-দায়িত্বের কথাও এসেছে ! উদাহরণস্বরূপ - একজন পুরুষকে ইসলাম, তার মৃত পিতার সম্পত্তিতে, তার বোনের প্রাপ্য উত্তরাধিকারের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করার ‘অধিকার’ দিয়েছে - কিন্তু সেই সঙ্গে, ঐ বোন বা মা-কে আমৃত্যু দেখাশোনা করার দায়-দায়িত্বও সেই পুরুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ৷ আবার দেখুন, সন্তানের উপর বাবা-মায়ের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অধিকার বা হক থাকে, ইসলামী বিশ্বাস মতে বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের যে ঋণ, তা কখনোই শোধ হবার নয় - কিন্তু, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই অধিকার অর্জিত হয়, সন্তান প্রতিপালনের কঠোর দায়-দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে ৷ এভাবে অন্যান্য সব ব্যাপারের মতই, একজন নারীর বেলায়ও অধিকার ও দায়িত্বের এই "যুগ্ম হিসাব নিকাশ" প্রযোজ্য ৷ সুতরাং, ইসলাম নারীকে কতটুকু অধিকার দিয়েছে, সেটা সব সময় তার উপর অর্পিত দায়-দায়িত্বের বিপরীতে ওজন করে দেখতে হবে - তা না হলে, হিসাব নিকাশে মারাত্মক ভুলের অবকাশ থেকে যাবে - যেমনটা পশ্চিমা ইসলাম বিশেষজ্ঞদের বেলায় ঘটেছে ৷ পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা তাই মৃতের পুত্র সন্তানের তুলনায়, কন্যা সন্তানের অর্ধেক উত্তরাধিকারের দোষ ধরেছেন - কিন্তু ঐ উত্তরাধিকার থেকে, কন্যা সন্তানদের একটি পয়সাও কারও জন্য খরচ করার দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভের বিরাট সুবিধাটুকু চোখে দেখেন নি ৷ আমাদের দেশের নাস্তিকতাবাদী আঁতেলরাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, ঐ একই দোষে দুষ্ট - তাদের একজন এ বিষয়ে বলেছিলেন যে, আল্লাহ্‌ নাকি অংকে কাঁচা (নাউযুবিল্লাহ্‌)!! এটা হয়তো তাদের জন্য স্বাভাবিকও ৷ দোষ ধরার পূর্ব-নির্ধারিত মনোভাব নিয়ে যখন কেউ কিছু পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন বিষয়টার গুণাগুণ তার চোখ এড়িয়ে যেতেই পারে ৷ (more…)

“এবং (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি) যে মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।”

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু আলাইকুম! কিছুদিন আগে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” ঘোষণার শর্ত -এই শিরোনামে ৫ পর্বের একটা flop সিরিজ পোস্ট প্রকাশ করেছিলাম আমার ব্লগে। পোস্টগুলো কেন flop হলো - তা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। শেষ পর্যন্ত নীচের একটি বা সব কয়টি কারণকেই সম্ভাব্য মনে হয়েছে: ক) আমার রস-কষবিহীন লেখা এবং অপাঠ্য ভাষা খ) ব্লগের বিশ্বাসী মুসলিম ভাই-বোনেরা এসব আগে থেকেই জানেন গ) এসব "কচকচানি" শোনার বা পড়ার সময় নেই তাদের জীবনে ঘ) জীবনের জন্য এর চেয়ে অনেক জরুরী জ্ঞাতব্য বিষয় পড়তে তারা ব্যস্ত (more…)

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য – এমনকি উৎসবেও

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য - এমনকি উৎসবেও আস সালামু আলাইকুম! আমরা অনেক সময়ই আমাদের দ্বীন নিয়ে গর্ব করি - নিজেদেরকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ভিত্তিক জাতি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করি । একই কথা ভৌগলিক সীমারেখা ভিত্তিক ন্যাশন-স্টেটের বেলায়ও প্রযোজ্য। আমরা স্বভাবতই আমাদের দেশকে ভালোবাসি এবং একধরনের গর্ব বোধও করি। ভালোবাসতে যদিও কোন বিশেষ কারণের বা যুক্তির ধার ধারতে হয় না, কিন্তু গর্ব বোধ করতে হলে কিছু কারণ থাকতে হয় বইকি! আমি যখন কাউকে গর্ব মিশ্রিত স্বরে বলবো: "ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ দ্বীন (বা ধর্ম)" - তখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করতেই পারে যে, কেন বা কিভাবে? প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা ভেবে দেখেছেন যে, হঠাৎ কেউ যদি আপনাকেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে বসে, তবে আপনি কি জবাব দেবেন? বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকলে আপনি হয়তো অনেক কিছু বলে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার অবকাশ না থাকলে তৎক্ষণাৎ কি বলবেন? আমরা খুব সহজ তিনটি দিক বলতে পারি: (more…)

দলে দলে বিভক্ত হওয়া ও বাইয়াতের concept

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু 'আলাইকুম! এই ব্লগে ইসলামের শুদ্ধ-জ্ঞানভিত্তিক লেখা যারা লিখে থাকেন - তাদের মাঝে "উমর' নিকধারী ভাইটি অন্যতম। তিনি যখন দলীয় রাজনীতি বা বাইয়াত নিয়ে লিখলেন, তখন দেখা গেল অনেকেই অপছন্দ করছেন। একইভাবে "মনপবন" নিকধারী গতকাল তার তথাকথিত প্রবচনে (১৬তম পর্বে) যখন দল বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর বিরুদ্ধে বললেন, আমি দেখলাম খুব অল্প সময়ের মাঝেই তিনি প্রথম "মাইনাস"টি অর্জন করলেন। "ইসলামের সত্যা-সত্য সম্বন্ধে জানতে চাই" - এমন কথা উচ্চারণ করলেও, দলের মোহ কাটাতে না পারা ব্লগাররা অনেক ক্ষেত্রেই "বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার" এমন মনোভাব পোষণ করে থাকেন! আগেও অনেকবার পড়েছি এবং শুনেছি - তবু, গতকাল মদীনা থেকে PhD করা এদেশের জন্য দুর্লভ একজন স্কলারের কাছে দ্বীন-শিক্ষার এক পর্যায়ে আবার যখন শুনলাম যে, মুসলিমদের দলে দলে বা ফিরক্বায় ফিরক্বায় বিভক্ত হওয়া চলবে না - কোন দলের দিকে আহ্বান করা যাবে না - দাওয়াত দিতে হবে কেবল আল্লাহর দিকে - ক্বুরআনের ভাষায়, "ইলাল্লাহ্"! তখন নতুন করে ব্যাপারটা চিত্তে আবার সজীব হয়ে উঠলো। আজ অন্য একটা ব্লগে আমার একটা পুরাতন লেখা খুঁজে বের করে ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি - আবারো, সবাইকে এবং নিজেকে মনে করাতে যে, ইসলামের সঠিক রূপ কেবল একটিই (more…)

ইসলামের প্রথম স্তম্ভ: শাহাদা

ইসলামের প্রথম স্তম্ভ: শাহাদা السلام عليكم ورحمة الله و بركاته ইসলামের প্রথম স্তম্ভ হচ্ছে: “শাহাদা” [যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ”সাক্ষ্য”] বা এই ঘোষণা দেয়া যে,আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ (বা উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল। আমরা এখানে প্রদত্ত ২টি সাক্ষ্যকে দুইভাগে আলাদা আলাদা আলোচনা করবো ইনশা’আল্লাহ্। শাহাদার প্রথম অংশের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” ঘোষণা হচ্ছে আসলে [negation বা] অস্বীকার করা ও [affirmation বা] নিশ্চিত করা – এই দুইয়ের সমন্বয় [বা combination]। প্রথমে অন্য কোন [প্রকৃত] “ইলাহ্”র অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে এবং পরে একমাত্র প্রকৃত ইলাহ্, আল্লাহর অস্তিত্বকে ব্যতিক্রম হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এটাকে আরবী ভাষায় সবচেয়ে শক্তিশালী [বা all inclusive] এক ঘোষণা বলে গণ্য করা হয় – যেখানে ঘোষণায় [বা statement-এ] কোন ফাঁক থাকে না – পরে অন্য কিছু জুড়ে দেয়ার আর কোন অবকাশ থাকে না। (more…)

জিহবার রক্ষণাবেক্ষণ করা

জিহবার রক্ষণাবেক্ষণ করা -১ আস সালামু আলাইকুম! মূল: ইমাম নববী মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন: মানুষ যে কথাই উচচারণ করে, তার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে ৷” (সূরা কাফ:১৮) এবং তিনি বলেন: অবশ্যই তোমার প্রতিপালক সতর্ক দৃষ্টি রাখেন ৷” (সূরা আল-ফজর:১৪) আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি, আল্লাহকে স্মরণ করার গ্রহণযোগ্য জিকিরের সে সমস্ত পদ্ধতি – যেগুলো আল্লাহ আমার জন্য সহজ করেছেন ৷ আমি সেই সাথে একজন মানুষের বক্তব্যের বা কথাবার্তার নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় দিকগুলো তুলে ধরতে চাচ্ছি ৷ সুতরাং, সেগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবো, যা সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের সচেতন থাকা উচিত ৷ (more…)

মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য

মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য - ১ السلام عليكم ورحمة الله و بركاته মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য মূল:ড: আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)- এঁর ওপর ও সেই সকল লোকদের ওপর যারা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের পথ অনুসরণ করে। এই মুসলিম উম্মাহর অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে পবিত্র কুরআনের আলোকে মূলত চারটি বৈশিষ্ট্য আমরা দেখব, যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা উল্লেখ করেছেন এই হিসেবে যে, তা সবসময় এই উম্মাহর থাকা উচিত বা ছিল বা থাকবে। আমরা দেখব এসব বৈশিষ্ট্য এই উম্মাহ কতটুকু ধরে রেখেছে এবং যদি এগুলো না থেকে থাকে তবে কিভাবে সেগুলো পুনরায় অর্জন করা যায়। (more…)

Our Inverted Priorities

Our Inverted Priorities-1 By the grace of Allah,I try to offer all my Fard Salaat [or namaz] in congregation, in a mosque. I do not deny that, sometimes I wish that, if I had the liberty to skip going to the mosque, may be I would have taken that opportunity. But I am convinced that, it is a great obligation on all Muslim males – and the obligation ranges between Wajib and Fard. Stricter scholars of Islam hold that, the difference between Wajib and Fard is only of a linguistic nature. However, my usual day to day feeling about the affairs in the mosque is very sad. During the Fajr, the strength of the congregation is about one and a half row, while during Maghrib, it is about 4 rows. The local mosque I go to, may accommodate at least about 15 rows in the ground floor, I believe, and about the same numbers in the 1st floor. (more…)

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের সম্পৃক্ততা

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের সম্পৃক্ততা মূল: সেলিম মরগ্যান (যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদের ইমামের খুতবা থেকে রূপান্তরিত এই লেখাটি আদতে আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য হলেও, এখনকার পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের বেলায়ই প্রযোজ্য) আমার মনে হয় আজ আপনারা যা শুনতে এসেছেন তা হচ্ছে “ওদের” রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমরা কতটুকু জড়িত হবো সে নিয়ে আলোচনা। এখানে হয়তো “ওদের” শব্দটা বাদ পড়ে গেছে। এভাবে বললে আপনা আপনিই কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: ওদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু হবে? এ নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই যে কথাটা মনে আসে তা হচ্ছে নির্বাচন। এবং আপনারা দেখবেন কিছু মুসলিম এই বলে ছুটাছুটি করে যাচ্ছেন যে, আমাদের কাজ করে যাওয়া উচিত যতক্ষণ না আমরা [আমেরিকার] একজন মুসলিম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে পারছি এবং আপনারা জানেন তারপর কি হবে বলে তারা মনে করেন। কাউকে তার অফিসে নির্বাচিত করা [তা প্রেসিডেন্ট, গভর্ণর, মেয়র, ইত্যাদি না না ধরনের অফিস হতে পারে], বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই [এবং STATE-এর বিভিন্ন পর্যায়ের পদগুলোর জন্যও যা প্রযোজ্য] (more…)

নামের আড়ালের মানুষগুলো

السلام عليكم ورحمة الله و بركاته আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে মিডিয়া যা বাজারজাত করে তা নিঃসন্দেহে একধরনের ভোগ্যপণ্য বা commodity। অন্য ভোগ্যপণ্যের সাথে এর তফাৎ হচ্ছে প্রধানত দুটো: প্রথমত, অত্যাবশ্যকীয় নয় বলে, এসব ভোগ্যপণ্য ভোগ করতে বা ক্রয় করতে আপনি বাধ্য নন - যেমনটা ধরুন ১ কে,জি, লবণ কিনতে আপনি অনেকটা বাধ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে, অর্থাৎ মিডিয়া কর্তৃক সরবরাহকৃত ভোগ্যপণ্যের বেলায়, কি ক্রয় করবেন বা করবেন না, সে ব্যাপারে আপনার ব্যাপক স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি চাইলেই আলোচ্য ভোগ্যপণ্য একেবারে ক্রয় না করলেও পারেন - কেউ আপনাকে জোর করতে পারবে না। তাই আপনি যখন আপনার জাতি-ধর্মের বিরুদ্ধে বিজাতীয়দের ‘তথ্য-সন্ত্রাসের’ অভিযোগ উত্থাপন করে মায়াকান্না কাঁদেন, তখন আপনার মনে রাখা উচিত যে, ঐ তথ্যের গ্রাহক হয়ে, আসলে তথ্য সরবরাহকারীদের পক্ষে প্রথম পদক্ষেপটি আপনিই নিয়েছেন। মাননীয় পাঠক! আপনি কি খেয়াল করেছেন যে, “বিবিসি বা সি,এন,এন-এর খবর দেখা/শোনা না হলে সেদিন ঠিক মত ঘুম হয় না” বা কোন একটা হিন্দুস্থানী সিরিয়াল না দেখলে ‘গোটা সপ্তাহটাই কেমন মনমরা ভাব থাকে’ - এমন কথা আমাদের বন্ধু বা আত্মীয়দের মুখে আজকাল সততই শোনা যায় ! (more…)

তাফসীর রচনাপদ্ধতি

السلام عليكم ورحمة الله و بركاته মূল: ইবনে তাইমিয়্যাহ যদি প্রশ্ন করা হয় তাফসীর রচনার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা কোনটি, তাহলে বলা যায় কুরআন দ্বারা (এক অংশ দ্বারা) কুরআনকে (অন্য অংশের) ব্যাখ্যা করা। কারণ কুরআনে একস্থানে যা পরোক্ষভাবে উল্লেখিত হয়, অন্য স্থানে হয়ত তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং এক স্থানে যা সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয় অন্য স্থানে তার বিস্তারিত দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। কিন্তু কুরআনের অন্য অংশের দ্বারা সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা পাওয়া না গেলে, আমাদের উচিত সুন্নাহর অনুবর্তী হওয়া। কারণ, সুন্নাহ হচ্ছে কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ শাফিঈ বলেছেন: রাসূল (সা.) যা কিছুই বলেছেন তার সবটুকুই ছিল কুরআনভিত্তিক।” (more…)