ইসলামী Feminism – ৩

লিখেছেন লোনার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১১, রাত ১২:৫৪ [ধারাবাহিকতার জন্য এর আগের পর্ব দু'টোও পড়ুন: https://loner356.wordpress.com/2018/04/19/ইসলামী-feminism-১/ https://loner356.wordpress.com/2018/04/19/ইসলামী-feminism-২/] অনেক দিন আগে - একটা টিভি শোতে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন: বিধাতা যদি তাকে আবার জন্মগ্রগণ করার সুযোগ দিতেন এবং তাকে নিজের জীবন বেছে নেবার সুযোগ দিতেন তবে তিনি নিজের জন্য একজন "সুন্দরী রমণী"র জীবন বেছে নিতেন। কারণ হিসেবে তিনি যা বলেছিলেন, তা মোটামুটিভাবে এমন ছিল যে, একজন সুন্দর রমণীর আর কোন গুণ না থাকলেও, তিনি যে সুন্দর - কেবল এটুকুকে কাজে লাগিয়েই তিনি জীবনে প্রায় সব কিছুই লাভ করতে পারেন। কথাগুলো ঠাট্টাচ্ছলে বললেও, সেগুলোর ভিতর…continue reading →

ইসলামী Feminism – ২

লিখেছেন লোনার ০৯ জানুয়ারী ২০১১, রাত ১২:৫০ [ধারাবাহিকতার জন্য এর আগের পর্বটাও পড়ুন: https://loner356.wordpress.com/2018/04/19/ইসলামী-feminism-১/ ] সাধারণভাবে যে কোন organized religion, আর বিশেষভাবে ইসলাম হচ্ছে defined hierarchy বা সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত কর্তৃত্ব বা authority-র উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটা জীবনব্যবস্থা - অনেকটা, কর্পোরেট কালচারে যেমন "who reports to whom" সেটা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত থাকে - তেমন। সেই বিন্যাস কোন দার্শনিক, মানবাধিকার কর্মী বা রাজনীতিবিদের কাছে মানবিক না অমানবিক অথবা ঠিক না বেঠিক মনে হলো - সেটা একটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তাই ঠিক-বেঠিকের বিতর্কে না গিয়ে, আমরা বলতে পারি যে, আপনি যদি নিজেকে জুডাইজম, খৃষ্টধর্ম বা ইসলামের মত…continue reading →

ইসলামী Feminism – ১

লিখেছেন লোনার ০২ জানুয়ারী ২০১১, রাত ১২:৪৩ আল্লাহ্ সুবাহানাওয়া তা'আলা ও রাসূল (সা.)-এর কাছ থেকে অহীভিত্তিক জ্ঞান মতে আমরা জানি যে, ইসলাম আবার পৃথিবীতে বিজয়ী হবে - আবার পৃথিবী শাসন করবে। আমি বিশ্বাসী মুসলিম, আর তাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ইসলাম সত্যিই আবার পৃথিবী শাসন করবে - কারণ আল্লাহ্ ও তার রাসূলের (সা.) কথা অবশ্য অবশ্যই সত্য! আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য কাজ করলাম কিনা বা মুসলিম থাকলাম না কি ঈমান হারিয়ে "কাফির" হয়ে গেলাম কিনা, irrespective of that - আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হবেই হবে এবং এজন্য আল্লাহ্ কারো বা কিছুর মুখাপেক্ষী…continue reading →

যারা আমাদের বোঝাতে চাচ্ছেন যে, ইসলাম একটা “দর্শন” – তাদের জ্ঞাতার্থে

লিখেছেন লোনার ০১ অগাস্ট ২০১১, সকাল ১১:৪৭ আজ থেকে ৪ বছর আগের কথা। শুদ্ধ উৎস থেকে দ্বীন শিক্ষার প্রচেষ্টায় আমরা তখন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বীন শিখে আসা একজন আলেমের সাথে নিয়মিত দ্বীন শিক্ষার আয়োজনে বসি। তিনি আমাদের ইবন আবু ইযয আল হানাফীর করা "আল-আক্বীদাহ আল-তাহাভীয়াহ্"-র "শরাহ" (ব্যাখ্যা) পড়াচ্ছিলেন। একদিন কথা প্রসঙ্গে আমাদের ওস্তাদ আমাদের একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন যার সারমর্ম ছিল এরকম যে, নবীর(সা.) রেখে যাওয়া সহজ সরল ইসলামের ভিতর প্রথম কখন "গরল" বা "বিষ" ঢালা হলো? তারপর নিজেই উত্তর দিলেন যে, যখন থেকে ইসলামে "ফালসুফা" (বা দর্শন) প্রবেশ করলো। খলিফা হারুনুর রশীদ…continue reading →

একজন ইদি আমীন ও আমরা……..

ইদি আমীন তখন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার মধ্যস্থলে ব্যয়বহুল এক ভাষ্কর্য বানানো হচ্ছে অনেক দিন ধরে, সরাসরি প্রেসিডেন্টের আদেশে। স্বভাবতই নির্মীয়মান ঐ ভাষ্কর্য ঢেকে রাখা হয়েছে - শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের জন্য। কাজটা প্রায় শেষ হয় হয় - এরই মাঝে একদিন বুল-ডজার এসে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া মূর্তিটি - তাও প্রেসিডেন্টের সরাসরি আদেশে। ইদি আমীনকে ব্যাপারটা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন যে, মূর্তিটা ছিল বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিটলারের - কিন্তু তিনি আগে জানতেন না যে, লোকটি আসলে এত খারাপ ছিল! এখন যখন জেনেছেন, তখন মূর্তিটি আর রাখা যায় না। ঘটনাটা আমি জেনেছি পশ্চিমা মিডিয়ার কাছ থেকে - হলুদ সাংবাদিকতার পথ-প্রদর্শক, ইহুদী নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা কুফফারদের মিডিয়া কর্তৃক পরিবেশিত এই ধরনের খবর বা গল্পে কিছুটা exaggeration থাকতেই পারে - বিশেষত ব্যক্তিটি যদি তাদের অনুগত না হয়! কিন্তু এর খুঁটিনাটি সত্যাসত্য যাই হোক না কেন - আমি ঘটনাটা বললাম অন্য কারণে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দু'টো ঘটনার সাথে ইদি আমীনের ঐ ঘটনার বেশ সাদৃশ্য রয়েছে বলে। (more…)

ইসলামী worldview

ইসলামী worldview - ১

আমি প্রচলিত ইংরেজী-বাংলা অভিধানে worldview শব্দটির অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করেছি কিন্তু পাইনি। হয়তো এই ধারণাটা বাংলা ভাষায় বা সাহিত্যে খুব প্রচলিত নয়। ‘জীবনদর্শন’ শব্দটি হয়তো, worldview শব্দটির খুব কাছাকাছি একটা ভাব প্রকাশ করে। ‘বিশ্বদর্শন’ - মোটামুটিভাবে সমার্থক আরেকটি শব্দ হতে পারতো। মাইক্রোসফ্টের Encarta-র অভিধানে শব্দটির অর্থ বলা হয়েছে: view of all life: a comprehensive interpretation or image of the universe and humanity। সোজা বাংলায় পৃথিবীকে, এই মহাবিশ্বকে, মানবতাকে ও জীবনকে আপনি যে চোখে দেখেন সেটাই হচ্ছে আপনার worldview। ইসলামকে কেবল একটা worldview বলা যাবে না, কারণ, ইসলাম তার চেয়ে আরো অনেক বেশী বিস্তৃত ও ব্যাপ্ত একটা বিষয় - কেবল ধারণা বা দর্শনের ব্যাপার নয়, বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ এক জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম - দুনিয়াকেন্দ্রিক হলেও, যে জীবনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আখেরাতে ‘সফল’ মানুষ হবার মর্যাদা লাভ করা। ইসলামের জীবনব্যবস্থাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ মনে করা ঈমানের এক মৌলিক দাবী। ইসলাম, জাহিলী আরবদের, আর সেই সঙ্গে অনাগত কালের সকল মানুষকেও - এক সম্পূর্ণ নতুন worldview উপহার দিয়েছিল, যা নবুয়তের ২৩ বছরে একটু একটু করে বিকশিত হয়ে রাসূল(সা.)-এঁর মৃত্যুর পূর্বেই পূর্ণতা লাভ করেছিল। (more…)

আবদুল্লাহ আল মনসুর ও একজন ইউসুফ ইসলাম

রমযান মাসে জীবনে সময়ের অভাব দেখা দেয় - যে কোন ভালো মুসলিমের তো বটেই - আমার মত সাধারণ মুসলিমেরও। আমি তাই ভেবেছিলাম, রমযান মাসে আর কোন পোস্ট দেব না - নিতান্ত যদি দিইও, তবে তা হবে pure ধর্ম্-কর্ম নিয়ে। কিন্তু "সামু"র জনপ্রিয় ব্লগার আবদুল্লাহ আল মনসুর-এর "মহান আল্লাহ্ পাকের অশেষ রহমতে বিরাট দুর্ঘটনা হতে বেঁচে আসলাম" - এই শিরোনামের একটা পোস্ট পড়ে মনে হলো, এই লাইনে কিছু লেখা যেতে পারে। এখনই না লিখলে চিন্তাটা হয়তো সময়ের সাথে হারিয়েও যেতে পারে - তাই এখনই লিখতে বসলাম। আমি জানি তার সমকালীন অনেক ব্লগীয় বন্ধু - যাদের সাথে তিনি হর-হামেশা ভাব বিনিময় করে থাকেন, তারা নাস্তিক বা এগনোস্টিক। কিন্তু আবদুল্লাহ আল মনসুর বিশ্বাসী - আর সেই বিশ্বাস প্রকাশ করতে তিনি কখনো কূন্ঠা বোধ করেন না! আমার অনেক কয়টা সেকেলে পোস্টে এসে তিনি ইতিবাচক মন্তব্য বা রেটিং দিয়ে গেছেন - আমি তখনই নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি আল্লাহয় বিশ্বাস করেন এবং তা নিয়ে লজ্জিতও নন। ব্লগে স্মার্ট্ বা সুশীল হতে হলে ধর্মানুভুতি না থাকা অথবা ধর্মানুভূতিকে কটাক্ষ করাটা যে একটা শর্ত - তিনি বোধহয় সেটা মনে করেন না। তবু "মহান আল্লাহ্ পাকের অশেষ রহমতে বিরাট দুর্ঘটনা হতে বেঁচে আসলাম" শিরোনামের ভিতর যে গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ ফুটে উঠেছে, তা হয়তো অনেককেই থমকে দেবে - অনেকটা ধরুন, যদি রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনে, সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীতে গান শুনতে গিয়ে দেখেন যে, স.ম. তুকীউল্লাহ্ তার (more…)

ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম

ক্রান্তিলগ্নে ইসলাম - ১ বিসমিল্লাহির রাহমানি রাহিম আস সালামু 'আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আমরা ক'জন একটা সামষ্টিক পাঠে বসি - বর্তমানে একটা বই ধরে চলছে আমাদের সাপ্তাহিক সামষ্টিক পাঠ। বইখানা ১৯৩৪ সালে লেখা । আমি ইতিপূর্বে বইখানা ৪/৫ বার পড়েছি। ইসলামের উপর আমার জীবনে পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বইয়ের একটি হবে এই বইটি। এই বইয়ে বহু প্যারাগ্রাফ আছে, যা থেকে কোন বুদ্ধিদীপ্ত পাঠক চাইলেই একটা গোটা পুস্তক রচনা করতে পারবেন অনায়াসে। কোন "ইসলামী ভাব সম্প্রসারণের" আয়োজনে, চাইলে, এই বইটির শত শত বাক্যকে ব্যবহার করা যেত। আমি নিশ্চিত জানি না, তবু আন্দাজ করতে পারি - এতদিনে বাংলায় এর অনুবাদও নিশ্চয়ই হয়েছে। তবু সামষ্টিক পাঠে আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে গিয়ে, আমার কি অনুভূতি হলো তা আপনাদের সাথে শেয়ার করার অদম্য বাসনা থেকে এই সিরিজ পোস্টে হাত দেয়া। আমি ঐ বই থেকে কেবল কিছু অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক নির্বাচিত প্যাসেজ আলোচনা করবো - excerpts বলতে পারেন। (more…)

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য – এমনকি উৎসবেও

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য - এমনকি উৎসবেও আস সালামু আলাইকুম! আমরা অনেক সময়ই আমাদের দ্বীন নিয়ে গর্ব করি - নিজেদেরকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ভিত্তিক জাতি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করি । একই কথা ভৌগলিক সীমারেখা ভিত্তিক ন্যাশন-স্টেটের বেলায়ও প্রযোজ্য। আমরা স্বভাবতই আমাদের দেশকে ভালোবাসি এবং একধরনের গর্ব বোধও করি। ভালোবাসতে যদিও কোন বিশেষ কারণের বা যুক্তির ধার ধারতে হয় না, কিন্তু গর্ব বোধ করতে হলে কিছু কারণ থাকতে হয় বইকি! আমি যখন কাউকে গর্ব মিশ্রিত স্বরে বলবো: "ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ দ্বীন (বা ধর্ম)" - তখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করতেই পারে যে, কেন বা কিভাবে? প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা ভেবে দেখেছেন যে, হঠাৎ কেউ যদি আপনাকেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে বসে, তবে আপনি কি জবাব দেবেন? বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকলে আপনি হয়তো অনেক কিছু বলে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার অবকাশ না থাকলে তৎক্ষণাৎ কি বলবেন? আমরা খুব সহজ তিনটি দিক বলতে পারি: (more…)

দলে দলে বিভক্ত হওয়া ও বাইয়াতের concept

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু 'আলাইকুম! এই ব্লগে ইসলামের শুদ্ধ-জ্ঞানভিত্তিক লেখা যারা লিখে থাকেন - তাদের মাঝে "উমর' নিকধারী ভাইটি অন্যতম। তিনি যখন দলীয় রাজনীতি বা বাইয়াত নিয়ে লিখলেন, তখন দেখা গেল অনেকেই অপছন্দ করছেন। একইভাবে "মনপবন" নিকধারী গতকাল তার তথাকথিত প্রবচনে (১৬তম পর্বে) যখন দল বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গীর বিরুদ্ধে বললেন, আমি দেখলাম খুব অল্প সময়ের মাঝেই তিনি প্রথম "মাইনাস"টি অর্জন করলেন। "ইসলামের সত্যা-সত্য সম্বন্ধে জানতে চাই" - এমন কথা উচ্চারণ করলেও, দলের মোহ কাটাতে না পারা ব্লগাররা অনেক ক্ষেত্রেই "বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার" এমন মনোভাব পোষণ করে থাকেন! আগেও অনেকবার পড়েছি এবং শুনেছি - তবু, গতকাল মদীনা থেকে PhD করা এদেশের জন্য দুর্লভ একজন স্কলারের কাছে দ্বীন-শিক্ষার এক পর্যায়ে আবার যখন শুনলাম যে, মুসলিমদের দলে দলে বা ফিরক্বায় ফিরক্বায় বিভক্ত হওয়া চলবে না - কোন দলের দিকে আহ্বান করা যাবে না - দাওয়াত দিতে হবে কেবল আল্লাহর দিকে - ক্বুরআনের ভাষায়, "ইলাল্লাহ্"! তখন নতুন করে ব্যাপারটা চিত্তে আবার সজীব হয়ে উঠলো। আজ অন্য একটা ব্লগে আমার একটা পুরাতন লেখা খুঁজে বের করে ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি - আবারো, সবাইকে এবং নিজেকে মনে করাতে যে, ইসলামের সঠিক রূপ কেবল একটিই (more…)

মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য

মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য - ১ السلام عليكم ورحمة الله و بركاته মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য মূল:ড: আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)- এঁর ওপর ও সেই সকল লোকদের ওপর যারা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের পথ অনুসরণ করে। এই মুসলিম উম্মাহর অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে পবিত্র কুরআনের আলোকে মূলত চারটি বৈশিষ্ট্য আমরা দেখব, যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা উল্লেখ করেছেন এই হিসেবে যে, তা সবসময় এই উম্মাহর থাকা উচিত বা ছিল বা থাকবে। আমরা দেখব এসব বৈশিষ্ট্য এই উম্মাহ কতটুকু ধরে রেখেছে এবং যদি এগুলো না থেকে থাকে তবে কিভাবে সেগুলো পুনরায় অর্জন করা যায়। (more…)

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের সম্পৃক্ততা

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের সম্পৃক্ততা মূল: সেলিম মরগ্যান (যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মসজিদের ইমামের খুতবা থেকে রূপান্তরিত এই লেখাটি আদতে আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমদের জন্য হলেও, এখনকার পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের বেলায়ই প্রযোজ্য) আমার মনে হয় আজ আপনারা যা শুনতে এসেছেন তা হচ্ছে “ওদের” রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমরা কতটুকু জড়িত হবো সে নিয়ে আলোচনা। এখানে হয়তো “ওদের” শব্দটা বাদ পড়ে গেছে। এভাবে বললে আপনা আপনিই কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: ওদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু হবে? এ নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই যে কথাটা মনে আসে তা হচ্ছে নির্বাচন। এবং আপনারা দেখবেন কিছু মুসলিম এই বলে ছুটাছুটি করে যাচ্ছেন যে, আমাদের কাজ করে যাওয়া উচিত যতক্ষণ না আমরা [আমেরিকার] একজন মুসলিম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে পারছি এবং আপনারা জানেন তারপর কি হবে বলে তারা মনে করেন। কাউকে তার অফিসে নির্বাচিত করা [তা প্রেসিডেন্ট, গভর্ণর, মেয়র, ইত্যাদি না না ধরনের অফিস হতে পারে], বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই [এবং STATE-এর বিভিন্ন পর্যায়ের পদগুলোর জন্যও যা প্রযোজ্য] (more…)

পেশা ও ইসলাম: কিভাবে সঠিক সমন্বয় সাধন করতে হবে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আস সালামু আলাইকুম! আজকের আলোচনার প্রস্তাবনা এরকম একটা কিছু: ধর্ম-কর্ম ও কাজ বা পেশার ভেতর একটা সমন্বয় কিভাবে ঘটানো যায়! ইসলামী সমাজের প্রেক্ষাপটে বা মুসলিম জীবনের ভিত্তিতে, এরকম একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব। অন্য যে কোন সমাজব্যবস্থা – যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম না হয়ে অন্য যে কোন ধর্মাবলম্বী অথবা নাস্তিক – সেখানে আলোচনার জন্য এরকম একটা বিষয়বস্তুর যৌক্তিকতা বা যথার্থতা থাকত। কেন, তা না হয় একটু খোলাখুলিই আলাপ করা যাক। (more…)

নামের আড়ালের মানুষগুলো

السلام عليكم ورحمة الله و بركاته আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে মিডিয়া যা বাজারজাত করে তা নিঃসন্দেহে একধরনের ভোগ্যপণ্য বা commodity। অন্য ভোগ্যপণ্যের সাথে এর তফাৎ হচ্ছে প্রধানত দুটো: প্রথমত, অত্যাবশ্যকীয় নয় বলে, এসব ভোগ্যপণ্য ভোগ করতে বা ক্রয় করতে আপনি বাধ্য নন - যেমনটা ধরুন ১ কে,জি, লবণ কিনতে আপনি অনেকটা বাধ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে, অর্থাৎ মিডিয়া কর্তৃক সরবরাহকৃত ভোগ্যপণ্যের বেলায়, কি ক্রয় করবেন বা করবেন না, সে ব্যাপারে আপনার ব্যাপক স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি চাইলেই আলোচ্য ভোগ্যপণ্য একেবারে ক্রয় না করলেও পারেন - কেউ আপনাকে জোর করতে পারবে না। তাই আপনি যখন আপনার জাতি-ধর্মের বিরুদ্ধে বিজাতীয়দের ‘তথ্য-সন্ত্রাসের’ অভিযোগ উত্থাপন করে মায়াকান্না কাঁদেন, তখন আপনার মনে রাখা উচিত যে, ঐ তথ্যের গ্রাহক হয়ে, আসলে তথ্য সরবরাহকারীদের পক্ষে প্রথম পদক্ষেপটি আপনিই নিয়েছেন। মাননীয় পাঠক! আপনি কি খেয়াল করেছেন যে, “বিবিসি বা সি,এন,এন-এর খবর দেখা/শোনা না হলে সেদিন ঠিক মত ঘুম হয় না” বা কোন একটা হিন্দুস্থানী সিরিয়াল না দেখলে ‘গোটা সপ্তাহটাই কেমন মনমরা ভাব থাকে’ - এমন কথা আমাদের বন্ধু বা আত্মীয়দের মুখে আজকাল সততই শোনা যায় ! (more…)

ইসলামে আধুনিকতাবাদ

ইসলামে আধুনিকতাবাদ -১ আস সালামু আলাইকুম মূল: জামাল-আল-দীন জারাবযো আধুনিকতাবাদ কি এবং এর উৎপত্তি সমকালীন “আধুনিকতাবাদী আন্দোলন” [বা Modernist Movement’’] যে দশর্নের অনুসারী, সেই দর্শন আমাদের হিজরী ৩য় শতাব্দীর একটি গোষ্ঠীর কথা মনে করিয়ে দেয়। এই গোষ্ঠীর নাম: মু’তাযিলা। যদিও তারা কুর’আন ও সুন্নাহকে অস্বীকার করত না – কিন্তু তারা তাওইল করত – আল্লাহর রাসূল (সা.) ও তাঁর সাহাবারা যেভাবে কুর’আনরে ব্যাখ্যা দিয়েছেনে তা বাদ দিয়ে নিজের বিচার-বুদ্ধি অনুযায়ী কুরআ’নরে ব্যাখ্যা দিত (অর্থাৎ কুর’আনের মনগড়া ব্যাখ্যা দিত) । তারা না’কল (text বা রাসূল (সা.)-এঁর দিক-নির্দেশনা ) অপেক্ষা আক্বল(reason – নিজ বুদ্ধমিত্তা)-এর প্রাধান্য দিত। কালের পরিক্রমায় এই গোষ্ঠীর বিলুপ্তি ঘটেছে। (more…)

ফ্যশনের কথা বাদ দাও, ঢেকে চলাতেই মুক্তি

ফ্যশনের কথা বাদ দাও, ঢেকে চলাতেই মুক্তি মুসলিমদের নিকাব ফ্রান্সে একটা গরম রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে - কিন্তু স্টেলা হোয়াইট বুঝতে পারেন না এ নিয়ে এত কথা বলার কি আছে? ইংলন্ডের কেন্টে বসবাসকারী এই ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ান সম্পূর্ণ ঢেকে চলার আনন্দ ব্যাখ্যা করেন: অবমুক্ত পশ্চিমাদের কাছে হিজাব অথবা নিকাব হচ্ছে নারীত্বের উপর আরোপিত এক কলঙ্ক। এটা হচ্ছে নারীসত্ত্বাকে পিষে মারার এবং দাসত্বের শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত করার একটা প্রতীক - যা কিনা নারীকে এমন এক নিষ্ক্রিয় মাংসপিন্ডে পরিণত করে, যাকে কেবল তার স্বামীর জন্য খাবার কিনতে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ইংরেজ নারীরা যখন এরকম সব-ঢেকে-চলা কোন নারীর মুখোমুখি হন, তখন তারা তার দিকে এক করুণা ও দুঃখের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেন। তাদের জন্য নিকাব হচ্ছে এক জীবিত মরণ। ফ্রেঞ্চ কর্তৃপক্ষ, যারা স্কুলসমূহে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাও হয়তো এরকমই যে: স্বল্পবয়সী কোন মেয়েকেই যেন তার তারুণ্যের মাথায় অবদমনের এই বোঝা বয়ে বেড়াতে না হয়। (more…)

আগন্তুক

আস সালামু আলাইকুম! নীচের লেখাটি একজন নাম না জানা বিদেশী লেখকের লেখা থেকে আপনাদের জন্য অনূদিত: —————– আমার জন্মের কয়েক মাস আগে, আমার বাবার সাথে একজন আগন্তুকের দেখা হয়েছিল, যে আমাদের ছোট্ট শহরে তখন নতুন এসেছিল। শুরু থেকেই আমাদের বাবা, ঐ মুখর আগন্তুকের প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট বোধ করেন এবং শীঘ্রই তাকে আমাদের সাথে এসে বসবাস করতে আমন্ত্রণ জানান। তার চেহারা, বাইরে থেকে দেখতে খুব আকর্ষণীয় মনে না হলেও, সবাই তাকে খুব তাড়াতাড়িই আপন করে নিল এবং কয়েক মাস পর পৃথিবীতে যখন আমার আগমন ঘটলো, তখন আর সবার সাথে সেও আমাকে স্বাগত জানালো। আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন, কখনো বাড়ীতে এই আগন্তুকের অবস্থান নিয়ে মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি। আমার কচি মনে পরিবারের সকল সদস্যের জন্য একেকটা আসন ছিল। আমার ৫ বছরের বড় ভাই ইউসুফ ছিল আমার জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ। আমার ছোট বোন সাদিয়া, আমার খেলার সাথী ছিল – সে আমাকে বড় ভাই হবার যোগ্যতা দান করে এবং মানুষকে ”ক্ষ্যাপানোর” বিদ্যা অর্জনে সহায়তা করে। আমার বাবা-মা ছিলেন সম্পূরক ও পরিপূরক শিক্ষক – মা আমাকে আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখান, আর বাবা শেখান কি করে আল্লাহর আনুগত্য করতে হয়। কিন্তু ঐ আগন্তুক আমাদের গল্প শোনাতো। (more…)

ঐক্য অথবা বিলুপ্তি

[একজন বিদেশী আলেমের লেখা থেকে অনুদিত] একটা বিখ্যাত গল্প আছে, কেউ কেউ হয়ত শুনে থাকবেন ৷ গল্পটা চারটি গরুকে নিয়ে ৷ তিনটি কালো, একটি সাদা ৷ তারা একটা শ্বাপদসংকুল এলাকায় বাস করতো ৷ এজন্য নিরাপত্তার খাতিরে তারা একসাথে থাকত এবং একে অপরের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতো ৷ যার ফলে তারা টিকে ছিল ৷ একদিন কালো তিনজন একত্র হল এবং বলল ‘এই সাদা গরুটার জন্য আমরা ধরা পড়ে যাব ৷ আমরা কালো বলে রাতের বেলা শত্রু আমাদের দেখতে পায়না, কিন্তু তাকে দেখতে পায় ৷ চল ঐ গরুটাকে আমরা পরিত্যাগ করি ৷ (more…)

একজন সাধারণ মুসলিমের প্রতিবাদ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ বাংলাভাষায় "চর দখল করা” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। এছাড়াও আমরা দেখি নদীর পাড় দখল, রেল লাইনের দু’পাশের জমি দখল, রাস্তার পাশের ”সি এন্ড বি”র [আসলে সড়ক ও জনপথের] জায়গা দখলের খবরাখবর বা কিস্সা-কাহিনী প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় ওঠে। রাজনৈতিক পেশী-শক্তির বলে গুন্ডাবাহিনী নিয়ে বুক ফুলিয়ে গিয়ে কোন স্থান বা বাড়ী দখলের ঘটনার খবরও প্রায়ই ফলাও করে খবরের কাগজে ওঠে। এছাড়া প্রভাবশালীরা বন-জঙ্গল বা খাস জমি কিভাবে দখল করে থাকেন - বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আমরা তা জানতে পেরেছি। তবে সাধারণ মানুষের সাধারণ দখলগুলো খুব সন্তর্পণে এবং "ট্রায়াল এন্ড এররের” মাধ্যমে ঘটে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ কখনো দেখা গেলো যে, কেউ রাস্তার পাশে সরকারের জমিতে গুটি কয়েক ইঁট বিছিয়ে তার উপর চা-বানানোর কিছু সরঞ্জাম ও বিস্কুটের কৌটা নিয়ে চা বিক্রি করতে শুরু করলো। এভাবে কিছুদিন চলার পর, (more…)

মুসলিম জীবনে ‘সময়’

মুসলিম জীবনে সময়’ – السلام عليكم ورحمة الله و بركاته কলেজ জীবন শেষে, আমরা, অর্থাৎ জাহাজের যাযাবর জীবন বেছে নেয়া তরুণেরা, মেরিন একাডেমীতে নিজেদের স্থান করে নিই। যারা মেরিন একাডেমীতে গেছেন, তারা হয়তো মনে করতে পারবেন যে, কর্ণফুলী নদী থেকে মেরিন একাডেমীতে যাবার জন্য প্রায় পোয়া মাইল দীর্ঘ সেতুর মত রেলিং দেয়া একটা রাস্তা রয়েছে – যা স্থলভাগকে জেটির সাথে সংযুক্ত করে। জোয়ারে এবং ভাটায়, উভয় অবস্থায় যেন মানব বহনকারী কোন জলযান সহজে ঐ জেটিতে ভিড়তে পারে, সেজন্য এই আয়োজন। জলযান-ভেড়া ঐ জেটিকে, আমরা বলতাম ‘জেটি-হেড’। (more…)
  • 1
  • 2