মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

[আমাদের একটা ছোট্ট ই-মেইল গ্রুপ আছে - যার সদস্যরা নিজেদের মাঝে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি share করেন। সৌদী আরবে থাকেন এমন একজন তরুণী মুসলিমাহ্ আজ ঐ গ্রুপে একটা বাংলা লেখা দিয়েছেন। আমার পড়ে ভালো লাগলো - ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি।] মূল লেখা: সৌদি আরব নিয়ে জনসাধারণের ধারণা একটু অদ্ভুত। কেউ ভাবেন এখানে লোকে হাইওয়েতে চলাচল করে উটের পিঠে চড়ে। কেউ ভাবেন এখানকার লোকগুলো সব বেদুইন। দেশ থেকে হজ্জ বা উমরা করতে এসে এখানকার দোকানপাট দেখে যখন সবার মাথা ঘুরে যায়, খুব অবাক লাগে আমার--- এদেশটাকে মনেহয় লোকে under developed বলে ধরেই এখানে আসে। একবার দাহরান এর King Fahad University তে আমেরিকা থেকে একজন ভারতীয় হিন্দু প্রফেসর এলেন ট্রেনিং দিতে। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস এর ঢুকে উনি বিশ্বাস এ করতে পারছিলেন না যে এটা সৌদি আরব--- সম্ভবত তিনি আশা করছিলেন উন্নত বিল্ডিং এ না, তাঁবুতে থাকে সকলে। আবার একদল মানুষ আছেন যারা সৌদি আরব এর সচ্ছলতার কথা বড় বেশী ভালভাবে জানেন। তাঁরা এখানে আসেন সেই উদ্দেশ্য নিয়েই--- দিনের পর দিন এখানে থাকেন, এখানকার সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আবার এদেশেরই বদনাম করেন। খুব কম মানুষই এই মরুভূমির দেশটির অসাধারণ সুন্দর দিকটি দেখতে পান অথবা দেখতে চান। (more…)

হে ঘাতক!

[এই পর্বের প্রথম প্রচেষ্টা রয়েছে এখানে: https://marinerbd.wordpress.com/2015/10/22/হে-ঘাতক/ হে ঘাতক! ভেবো না তুমি আমায় কথার মায়াজালে ভুলিয়ে রাখবে। আমি ঠিকই আমার ভাইয়ের প্রতি বিন্দু রক্তের বদলা চাইবো - চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, নাকের বদলে নাক। তা সে যতদনিই লাগুক! ভেবো না তুমি জনতার একজন হয়ে যাবে- সময়ের ব্যাবধানে, মিশে যাবে আর সকলের সাথে, সকলের মাঝে। ঘাতক! আর হুকুমের আসামী ছায়া-ঘাতক!! হ্যাঁ তোমাকেও বলছি, শুনে রাখো: ভেবো না আমার ভাইয়ের সমাধিতে ফুল দিলেই আমি ভুলে যাবো সব! আর অনায়াসে তুমি আমার ভাই-বন্ধু কিছু হয়ে যাবে!! দাবার ছকে বড়ে আর মন্ত্রী এক নয়, কিস্তি…continue reading →

দিবস দিয়ে কি ভালোবাসা হয়!

দিবস দিয়ে কি ভালোবাসা হয়, নাকি ভালোবাসার কোন দিবস হয়! তাহলে সবাই ঐ এক দিবসের আয়ুই চাইতো - এক জীবনের নয়। খুঁজে পেতে কি ভালোবাসা হয়? তাহলে অনেকেই “হিলারী-তেনজিং” হয়ে এভারেস্টে যেতেও রাজী হতো - প্রেম ভালোবাসা বয়ে নিয়ে আসতে। ভালোবাসা কি ফুলের তোড়া বা কাঁচের বাক্সে সাজানো কোন কেক/চকোলেট ? অথবা বিজ্ঞাপনের কোন পণ্য, যা পয়সা থাকলেই যে কারো হতে পারে? তাহলে তো “বিল-গেটস” আর "সরোস”রাই পৃথিবীর সব ভালোবাসা কিনে নিতো! আর কারও জন্য কি একফোঁটা ভালোবাসা কোথাও পাবার উপায় থাকতো? ভালোবাসা তাহলে ফুল নয়, কেক নয়, অযথা কথার ফুলঝুরিও নয় অশ্লীল…continue reading →

ইসলামের দৃষ্টিতে “ভ্যালেন্টাইন’স ডে” বা “ভালবাসা দিবস”

ইসলামের দৃষ্টিতে "ভ্যালেন্টাইন’স ডে” বা "ভালবাসা দিবস” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এঁর ওপর, তাঁর পরিবার এবং সাহাবীগণের ওপর, এবং সেই সকল লোকদের ওপর, কিয়ামত পর্যন্ত যারা সত্যের পথ অনুসরণ করবে ৷ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন বা জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে বাছাই করেছেন এবং তিনি অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা কখনও গ্রহণ করবেন না, তিনি বলেন: "এবং যে কেউই ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবন-ব্যবস্থা আকাঙ্খা করবে, তা কখনোই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না, এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ৷” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৮৫) এবং নবী(সা.) বলেছেন, এই উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক বিভিন্ন ইবাদতের প্রক্রিয়া ও সামাজিক রীতিনীতির ক্ষেত্রে আল্লাহর শত্রুদের অনুসরণ করবে ৷ আবু সাঈদ আল খুদরী(রা.) বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন: (more…)

ঘৃণার সুনামী

পৃথিবীর মানচিত্র থেকে, তোমার মুছে যাওয়াই যদি আমার অস্তিত্বের একমাত্র শর্ত হয় - তবে তাই হোক, আমি তাই চাইবো। আমার মানচিত্র টিকিয়ে রাখতে, তোমার মানচিত্রের ছিন্ন-ভিন্ন হওয়া যদি অপরিহার্য ও অনিবার্য হয়, তবে তাই হোক, আমি তাই চাইবো। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৫

সমুদ্রে জীবন – ১৫

[এই সিরিজের একটা লেখা অনেকদিন পরে পোস্ট করা হলো। কেউ চাইলে এর ঠিক আগের লেখাটা এখানে দেখতে পাবেন: উপরে যে জাহাজের ছবিটা দেয়া আছে, ঐ জাহাজে করে যাত্রার বর্ণানাই নীচে আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো !] ৯/১১-র পর পর আমি যে জাহাজে জয়েন করি, সেই জাহাজটা চলতো Singapore - Jebel Ali (Dubai) - Fujairah - Navashiva (Bombay) - Singapore এই loop-এ। হঠাৎই খবর আসলো আমাদের রুট বদলে যাচ্ছে এবং আমরা US route-এ যাচ্ছি। মালোয়েশিয়া ততদিনে কি একটা বেয়াদবী যেন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে - আমার একদম বিশদ মনে নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণ নিয়ে, কি যেন বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন সে দেশের শীর্ষ-স্থানীয় নেতারা। তাতেই যুক্তরাষ্ট্র, মালোয়েশিয়ার উপর খুব ক্ষ্যাপা। শোনা যাচ্ছিল: কোন জাহাজে মালোয়েশিয়ান বা পাকিস্তানী শীর্ষ-স্থানীয় অফিসার থাকলে, সেই জাহাজকে কখনো বন্দরে (বিশেষত নিউ ইয়র্কের মত বন্দরে) ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না - আবার কখনো বন্দরে ঢুকতে দেয়া হলেও জাহাজের কাউকেই "shore leave" দেয়া হচ্ছে না অর্থাৎ মাটিতে পা রাখতে দেয়া হচ্ছে না - জাহাজের 'port-hole' দিয়ে মাটি দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৪

সমুদ্রে জীবন – ১৪

তেরোটি পর্ব লেখার পর আমি সঙ্গত কিছু কারণে সিরিজটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম - যার একটি ছিল আমার ব্লগিং-এর উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি। অনেকেই সিরিজটার কথা এখন হয়তো ভুলে গিয়ে থাকবেন, আর তাই সেটাকে ঘিরে যে "বিনোদনের" পরিবেশ গড়ে উঠেছিল তার রেশও এখন হয়তো কেটে গিয়ে থাকবে, ইনশা'আল্লাহ্! তাই আমার ব্লগিং-এর উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে আবার সিরিজটা শুরু করার চিন্তা করলাম। ভেবেছিলাম ইউরোপের কথা এখন আর বলবো না! তবু অন্য একটা প্রসঙ্গে মনে হলো আরেকটু বলে নিই - পরে না হয় ধারাবাহিকতায় ফিরে যাওয়া যাবে - যদিও এখন যে কেবলই ইউরোপের কথা আসবে তা নয়। ৯/১১ পর থেকে সারা বিশ্বে মুসলিমদের অবস্থা ও অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যারা একটা মুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের জীবনেও যে নানাবিধ পরিবর্তন এসেছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু মুসলিম নাবিক - বিশেষত যারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান, তাদের না বুঝে উপায় ছিল না যে, পৃথিবীতে যুগান্তকারী একটা প্রলয়কান্ড ঘটে গেছে! (more…)

মানচিত্রের সবুজ রঙ

একটা স্বপ্ন, যা এই পোড়া চোখে অহরহ ভাসে - কখনো ঘুমের মাঝে দেখি, তবে জেগে থেকে সর্বদাই দেখি। মাঠের পর মাঠ, প্রান্তরের পর প্রান্তর কেবল সবুজ ছড়িয়ে আছে - আমার প্রিয়জনের প্রিয় রঙ, সবুজ ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। অপরূপ, অদ্ভুত একটা স্বপ্ন যা আমার চোখে সর্বদাই ভাসে - মানচিত্রের শত রঙ বিলীন হয়ে যায় মাত্র দু'টি রঙে: একটি সবুজ, আরেকটি কি তাতে আসে যায় না। প্রিয়জনের স্বপ্নের রঙ, সবুজ যেন ছড়িয়ে আছে সর্বত্র - প্রাণের রঙ, জীবনের রঙ সবুজ যেন ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। (more…)

নির্বোধের স্বর্গবাস

একটি বিষাদ ভুলিয়ে রাখতে আমার চারপাশে কত আয়োজন। আমায় সবাই বোঝাতে চায়, আমার কোন ভয় নেই- আমার কিছুই হবে না, যা হবার হবে অন্য লোকের। একটি সত্য ভুলিয়ে রাখতে, আমাকে ঘিরে কত আয়োজন। কখনো ভারত নাট্যম, শাহরুখ-সন্ধ্যা, আবার কখনো কথক নৃত্য অথবা বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা- রবীন্দ্র সঙ্গীত সন্ধ্যা, কিংবা ব্রায়ান এডামসের গান- বৈশাখের ইলিশ-পান্তা, নারীর পিঠে উল্কির আহ্বান! সবাই কেবল একটি সত্য ভুলিয়ে রাখতে চায় - সেই সাথে আসলে নিজেরাও ভুলে থাকতে চায়। নেশাগ্রস্তের মতই, অক্ষমতা -অথবা- কিছু না করতে পারার বেদনা - সবাই যেন আপাতত ভুলে থাকতে চায়। (more…)

জীবনে অগ্রগতির সংজ্ঞা

এই ব্লগে বহুদনি ধরেই কিছু সংখ্যক নারী(?) ব্লগারদের মাঝে একটা trend লক্ষ্য করা যায়: একটা "মুসলিম রমণী"সুলভ নিক নিয়ে, ইসলাম এবং মুসলিমদের সবকিছুকে হেয় প্রতিপন্ন করার এমন নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া - যা কেবল নিকৃষ্ট শ্রেণীর ইসলাম-বিদ্বেষী কাফির বা নাস্তিকরা কোন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েই করে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসব করে অনেক কিছু হাসিল করা গেলেও, এখানে তাদের প্রাপ্তিটা কি আমি নিশ্চিত নই! আমরা জানি তসলিমা নাসরিন থেকে শুরু করে ইরশাদ মানজী, মরিয়ম নামাজী প্রমুখ - সকলের জীবনে "মুসলিম" নাম নিয়ে প্রকাশ্যে "ইসলাম বিদ্বেষ" প্রমাণ করাতে হার্ভার্ডে ফেলোশিপের মত বিশাল বিশাল সব প্রাপ্তি রয়েছে! কিন্তু যখনই ভাবি সোনাব্লগের মত জামাত-শিবির infested বিশ্বাসীদের ব্লগে তাদের প্রাপ্তি কি হতে পারে? তখনই মনে হয়: হতে পারে এখানে তারা "কিছু পেতে আসেন নি" বরং "কিছু পেয়ে এসেছেন" - অর্থাৎ, বিশ্বাসী মুসলিমদের মাঝে সংশয় বপন করে তাদের অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদী বানানোর "কাজ" হাতে নিয়ে তারা এখানে এসেছেন এবং কারো payroll-এ থেকে নিষ্ঠার সাথে সে "কাজ" করে চলেছেন। বিলকিস, বেগম, এলিজাবেথ, হেলেনা ইত্যাদি বাহারী মেয়েলী "নিক" আসলে কি বহুজনের না একজনেরই, তা নিয়েও অনেকের সন্দেহ রয়েছে। যাহোক, সোনাব্লগের ইসলাম বিদ্বেষী রমণীদের তালিকায় সর্ব সাম্প্রতিক একজন হচ্ছেন "হেলেনা" ওরফে "হেলেনারা"। আজ তার একটা পোস্ট ( http://www.sonarbangladesh.com/blog/helenara/116102 ) এসেছে, "নাস্তিক চীনের প্রথমবারের মতো সফল স্পেস ডকিং........" - এই শিরোনামে। সেখানে তিনি লিখেছেন: "আমরা মুসলমানরা এখনো একজন ইবনে সিনা কবিরাজের কম্বল জড়িয়ে বিজ্ঞানের তুড়ি বাজাই আর অন্য কে জ্ঞানদান করি। অথচ নিজেদের প্রপ্তি শুন্য। অন্যদিকে সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী গনচীন শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যাছ্ছে।" (ভুল বানানগুলোও কিন্তু তার, আমার নয়!!) (more…)

মিলাদুন্নবী পালনের বিধান

মিলাদুন্নবী পালনের বিধান - ১

মূল:শায়খ ড. সালিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, কল্যাণ ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ(সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর। কুরআন এবং সুন্নাহতে খুব স্পষ্টভাবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলী অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় ব্যাপারে নতুন কিছু সূচনা করাকে স্পষ্টত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন: “বলুন [হে নবী]: যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১) “তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে, তোমরা তার [কুরআন ও সুন্নাহ] অনুসরণ কর, আর তাঁকে [আল্লাহ] ছাড়া আর কোন আউলিয়ার [সেই সব সত্তা যারা আল্লাহর সাথে শরীক করার নির্দেশ দেয়] অনুসরণ করো না...” (সূরা আল আরাফ, ৭:৩) (more…)

আর যাকে বলতে চাও বল

সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে তোমার - ফেলানীর মৃত্যুতেই কি মনে হলো? সার্বভৌমত্ব কাকে বলে, তুমি হয়তো তা জানোই না! সে তো কবে কখন হারিয়ে গেছে- সময়ের কোন অদৃশ্য বাঁকে। জন্মের আগেই বুঝি মৃত্যু ঘটেছে তার - ইতিহাস-জরায়ূর অন্ধকার গহ্বরে! হ্যাঁ, আমি অবশ্য সার্বভৌমত্ব বলতে নিঃশর্ত সার্বভৌমত্বই বোঝাতে চাইছি! সে কবে কখন হারিয়ে গেছে- সময়ের কোন অদৃশ্য বাঁকে। আজ পেছন ফিরে খুঁজতে চাইলে গোলক ধাঁধাঁর মত দুর্বোধ্য ঠেকে! (more…)

কুর’আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো

[মূল: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র লেখা How to Approach and Understand the Quran] পর্ব-১ [সুচনা] সুচিপত্রের পরেই পর্ব-২ [প্রেহ্মাপট] পর্ব-৩[এই সিরিজের আলোচ্য বিষয়াবলী] পর্ব-৪ [কুর’আনের বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রতি আমাদের কর্তব্য] পর্ব-৫ [ আল্লাহ্ কুর’আন সম্বন্ধে কি বলেন] পর্ব-৬[আল্লাহ্ কুর’আন সম্বন্ধে কি বলেন] পর্ব-৭ [কুর’আন সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহর (সা.) বক্তব্য] পর্ব-৮ [যারা কুর’আন জানতেন এবং কুর’আনকে জীবনে ধারণ করেছিলেন, কুর’আন সম্বন্ধে তাঁদের বক্তব্য] পর্ব-৯ [কুর’আনের প্রতি একজন মুসলিমের দায়দায়িত্ব] পর্ব-১০[কুর’আনিক প্রজন্ম : সঠিকভাবে কুর’আনের নিকটবর্তী হবার এবং সঠিকভাবে কুর’আন বোঝার ফলাফল] পর্ব-১১ [রাসূলের (সা.) আগমনের পূর্বের আরবগণ] পর্ব-১২ [রাসূল (সা.) কি উৎসমূল ছিলেন?] পর্ব-১৩ [বর্তমান সময়ে পবিত্র কুর’আনের একই ধরনের প্রভাব নেই কেন?] পর্ব-১৪ [আল্লাহর জন্য বিশ্বস্তভাবে পবিত্র কুর’আনকে অনুসরণ করার চিরস্থায়ী ফলাফল] পর্ব-১৫ [ বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ মুসলিম কি দৃষ্টিতে কুর’আনকে দেখে থাকেন] পর্ব-১৬ [কুর’আন তিলাওয়াত না করা] পর্ব-১৭[কেবল বরকতের জন্য কুর’আন তিলাওয়াত করা বা কাছে রাখা] পর্ব-১৮[কুর’আনকে কেবলি শিফা হিসাবে অথবা শারীরিক অসুখ সারাতে ব্যবহার করা] পর্ব-১৯[‘বৈজ্ঞানিক বিস্ময়’ সনাক্ত করার জন্য কুর’আন পড়া]

কুর'আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো - ১

পবিত্র কুর’আন, দ্বীন ইসলামে এবং ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় যে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে, পৃথিবীর আর কোন একটি ধর্মের বেলায়, সেই ধর্মের ধর্মগ্রন্থকে এ ধরনের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না। মুসলিম জীবনে কুর’আনের ভূমিকা কি তা অনুভব করার ব্যাপারটাও হয়তো বা সবার জন্য উন্মুক্ত নয় - অনেকে যেমন মনে করেন যে, কুর’আনের পথনির্দেশনা এবং নিরঙ্কুশ জ্ঞানের ভান্ডারও সবার জন্য উন্মুক্ত নয়, কেবল বিশ্বস্ত বিশ্বাসী বা সম্ভাব্য হেদায়েত লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন সৌভাগ্যবানদের জন্যই তা উন্মুক্ত হয়ে থাকে। তেমনি এই ব্যাপারটাও - অর্থাৎ, কুর’আনের ভূমিকার গুরুত্ব বোঝার ব্যাপারটাও - সম্ভবত কেবল নির্বাচিত ও বিশিষ্টদের জন্য নির্ধারিত। ইহুদী বা খৃস্টধর্মাবলম্বী কুফফার ওরিয়েন্টালিস্টগণ - খৃস্টধর্মের উপর যাদের রয়েছে বিস্তর পড়াশোনা - তারা তাদের নিজেদের মত করে ব্যাপারটাকে কিছুটা আঁচ করার চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন যে, খৃস্টধর্মের বেলায় যীশুর যে গুরুত্ব - ইসলামের বেলায় কুর’আন সেই ধরনের গুরুত্বের অধিকারী। ‘যীশুকে অবতার ভাবার’ মত কুফরে নিমজ্জিত থেকেও, তারা একধরনের ব্যাখ্যা দান করার চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন যে, যীশু হচ্ছেন ঈশ্বরের Word made flesh, আর কুর’আন হচ্ছে ঈশ্বরের Word made book। খৃস্টানদের এই বক্তব্যে, কুর’আন যে আল্লাহর বাণী এই ধারণার একটা vague স্বীকৃতি রয়েছে বলে, আমাদের অনেকেই ভুলে যাই যে, উপরোক্ত বক্তব্যের প্রথমার্ধে একটা সূক্ষ্ম অথচ ভয়ঙ্কর ‘কুফরি’ রয়েছে এবং আমরা মুসলিমরাও নিজেদের অজান্তেই ঐ কুফরির ফাঁদে পা দিই। কুর’আন আল্লাহর বাণী বলে তা আল্লাহর সিফাতের একটা অংশ এবং সেহেতু divine বা ঐশ্বরিক - অর্থাৎ সৃষ্ট বস্তু নয় ; যীশুও যদি আল্লাহর বাণীর ‘রক্ত-মাংসে রূপান্তরিত অবস্থা’ বা Word made flesh হয়ে থাকেন, তবে তো তিনিও divine বা ঐশ্বরিক এবং সৃষ্ট কোন প্রাণী নন! এখানেই নিহিত রয়েছে এমন ধারণা যা ইসলামের দৃষ্টিতে নির্ভেজাল ‘কুফরি’। (more…)

স্বাধীনতা তুমি কোথায় লুকিয়ে রয়েছো?

[গত ১৫/১২/২০১০ তারিখে অন্য ব্লগে প্রকাশিত - যখন খবর এসেছিল ওরা পাদুয়া দখল করে নিয়েছে] স্বাধীনতা তুমি কোথায় লুকিয়ে রয়েছো? তোমাকে নিয়ে কত কাব্য, কত কথকতা! তুমি কি আজকের খবর পড়েছো? দেখেছো দেশের মানচিত্রের আরেকটি অংশ- কেমন খুবলে ছিঁড়ে খেলো ব্রাহ্মণ্যবাদীরা। এমনিতে ওরা নাকি নিরামিষাশী, নিজের দেশকে "মা" জ্ঞান করে। কিন্তু অপরের মায়ের অংশ বা "মাংস" - অনায়াসে ছিঁড়ে-কুটে খেতে পারে! তুমি কি তাহলে লজ্জায় কোথাও লুকিয়ে আছো? (more…)

অনেকেই দেশটা নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে

আমাদের জন্মভূমি এই দেশটা - আমরা যাকে বাংলাদেশ বলি; ছোট বা গরীব হলেও, অনেকেই দেশটা নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে! ড্যানিশ বা সুইডিশ পর্ণো-রাজ্যের বাসিন্দারা - নিজেরা ধর্মকে এক প্রকার তালাক দিলেও - এদেশে জমজমাট ধর্ম-ব্যবসায় খুলে খুবই আশান্বিত - পার্বত্য এলাকায় আরেকটা পূর্ব-তিমোর - এখন বুঝি কেবলই সময়ের ব্যাপার মাত্র - প্রায় অনিবার্য! ছোট বা গরীব হলেও - দেশটা নিয়ে তারা আশায় বুক বেঁধেছে! (more…)

হ্যামিলনের বংশীবাদক

হে শয়তান! তুমিই কি জার্মান রূপকথার সেই বংশীবাদক? হ্যামিলনের ছেলেমেয়েরা যার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল, হারিয়ে গিয়েছিল অজানা অনন্তে - চিরদিনের তরে! তুমিই কি তবে ভিন্ন ভিন্ন রূপে বার বার ঘুরে ফিরে আসো - পৃথিবীর যত্র-তত্র শহর বন্দর গ্রামে, লোকালয়ে ? নতুন নতুন বাঁশী হাতে, নতুন নতুন সুর নিয়ে? হালে তুমি আমার মুসলিম বাসভূমেও ঘন ঘন আসতে শুরু করেছো, কত রূপে, কত রঙে - কত নতুন সুরের নতুন নতুন বাঁশী হাতে! তুমি চির নিরাশ, নরকের নিশ্চিত অধিবাসী ৷ (more…)

একজন ইদি আমীন ও আমরা……..

ইদি আমীন তখন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার মধ্যস্থলে ব্যয়বহুল এক ভাষ্কর্য বানানো হচ্ছে অনেক দিন ধরে, সরাসরি প্রেসিডেন্টের আদেশে। স্বভাবতই নির্মীয়মান ঐ ভাষ্কর্য ঢেকে রাখা হয়েছে - শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের জন্য। কাজটা প্রায় শেষ হয় হয় - এরই মাঝে একদিন বুল-ডজার এসে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া মূর্তিটি - তাও প্রেসিডেন্টের সরাসরি আদেশে। ইদি আমীনকে ব্যাপারটা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন যে, মূর্তিটা ছিল বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিটলারের - কিন্তু তিনি আগে জানতেন না যে, লোকটি আসলে এত খারাপ ছিল! এখন যখন জেনেছেন, তখন মূর্তিটি আর রাখা যায় না। ঘটনাটা আমি জেনেছি পশ্চিমা মিডিয়ার কাছ থেকে - হলুদ সাংবাদিকতার পথ-প্রদর্শক, ইহুদী নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা কুফফারদের মিডিয়া কর্তৃক পরিবেশিত এই ধরনের খবর বা গল্পে কিছুটা exaggeration থাকতেই পারে - বিশেষত ব্যক্তিটি যদি তাদের অনুগত না হয়! কিন্তু এর খুঁটিনাটি সত্যাসত্য যাই হোক না কেন - আমি ঘটনাটা বললাম অন্য কারণে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দু'টো ঘটনার সাথে ইদি আমীনের ঐ ঘটনার বেশ সাদৃশ্য রয়েছে বলে। (more…)

করণীয়/বর্জনীয়

করণীয়/বর্জনীয় - ১

১৮ ই নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:১০
আমাদের পাড়ার মসজিদের ৩ নং হুজুর, অনেক সময়ই কোন এক ওয়াক্তের নামাজের পর “বাকী নামাজের পরে বারান্দায় মিলাদ আছে, যে যে পারেন শরীক হতে চেষ্টা করবেন”—এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে থাকেন। আমি কখনোই সেই ’যে যে পারেনের’ দলে থাকতে পারিনি, তবে অনুমান করতে পারি যে, ঐ সব মিলাদ খুব সম্ভবত, কারো পরীক্ষায় ভালো করার জন্য দোয়া চেয়ে, অথবা পরীক্ষায় ভালো করার পর শুকরিয়া জানিয়ে, বা কারো রোগমুক্তির জন্য দোয়া চেয়ে, অথবা কোন মৃত স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বা একই ধরনের কোন উপলে আয়োজিত। আমি ভাবতে চেষ্টা করেছি যে, কি ধরনের মানসিক অবস্থায় কোন মিলাদের আয়োজক, অর্থাৎ যিনি মিষ্টি ইত্যাদি বা ঐ মিলাদের আনুষঙ্গিক খরচ বহন করছেন, তিনি এই ’ভাবগম্ভীর’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন? আমি উপরে যে কারণগুলোর কথা উল্লেখ করছি, সে সব কারণে যদি তিনি মিলাদের আয়োজন করে থাকেন, তবে ধরে নিতে হবে যে, তিনি একজন বিশ্বাসী — কারণ, তার কোন উপস্থিত জাগতিক প্রাপ্তি নেই ঐ খরচের বিনিময়ে — তিনি “বিশ্বাস” করছেন যে, তার ঐ পুণ্যময় আয়োজনের বিনিময়ে আল্লাহ্ তাকে কিছু একটা দেবেন। একজন অবিশ্বাসীর জন্যও মিলাদের আয়োজন করা সম্ভব, তবে তা হবে কোন তাৎক্ষণিক জাগতিক অর্জনের জন্য, যেমনটা ধরুন “জনগণকে” ফু্সলাতে ভোটের মৌসুমে কোন অবিশ্বাসী তাগুত নেতাও মিলাদের আয়োজন করতে পারেন। (more…)

হে নাস্তিক…!

হে নাস্তিক! আমি তো তোমার কাছে ঈশ্বর প্রমাণ করতে চাই নি!! তবে কেন তুমি গায়ে পড়ে আমার সাথে ঝগড়া কর, তর্ক জুড়ে দাও? মানব জীবন কেমন হবার কথা - আমি কি তোমার কাছে জানতে চেয়েছি? তবে কেন তুমি তোমার জীবনের অর্থহীনতা দিয়ে, আমার জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চাও? তুমি থাকোনা তোমার অর্থহীন "প্যাঁচাল” নিয়ে - কষ্ট করে চয়ন করা দুর্বোধ্য শব্দে ইনিয়ে বিনিয়ে নারীর দেহ সৌষ্ঠবের বর্ণনা, অথবা, যৌনতার শরীরী প্রকাশ বা প্রেম ভিক্ষা নিয়ে ৷ (more…)

সমুদ্রে জীবন – ১৩

এই সিরিজের লেখাগুলো লিখতে গিয়ে চেস্টা করি, নিজের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য বা গাল-গপ্প যেন উঠে না আসে - তথাপি কিছু চলেই আসে! ভ্রমন বা জীবনের কথা যেখানে থাকবে, তা তো কোন না কোন ব্যক্তি-আশ্রিতই হবে! এ পর্যন্ত কারো কাছ থেকে তেমন কোন আপত্তির আভাষ পাই নি - তবু, কারো বিরক্তি লাগলে নিঃসঙ্কোচে জানাবেন - ইনশাল্লাহ্, তখন আরো নৈর্ব্যক্তিক করার চেষ্টা করবো! আমি চেস্টা করছি একজন নাবিকের জীবনটা সমুদ্রে কেমন কাটে/কাটলো - চড়াই-উৎরাই পার হয়ে একজন মানুষ হিসাবে তার জীবন কি ভাবে evolve করে - সে সম্বন্ধে একটা ধারণা দিতে - লেখার পেছনে কলম (বা কী-বোর্ড) হাতে মানুষটা ঠিক কে - irrespective of that যেন ব্যাপারগুলো বোধগম্য হয় বা উপস্থাপনযোগ্য হয়! (more…)