সমুদ্রে জীবন – ৪

সমুদ্রে জীবন – ৪

mariner77_1277921701_3-MVC-320Eএই সিরিজের আগের লেখাটায়, বিভিন্ন ধরনের জাহাজের কিছু বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যাতে (অ-জাহাজী) সাধারণ পাঠকরা যদি সিরিজটা পড়তে থাকেন, তবে মোটামুটিভাবে যেন বোঝেন যে, কি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। আগের লেখায় জাহাজের শ্রেণীবিভাগটা ছিল মালামালের ধরনের উপর ভিত্তি করে। এবার ট্রেডিং/সার্ভিস বা ব্যবসার ধরনের উপর নির্ভর করে জাহাজের আরেকটি শ্রেণীবিভাগের কথা বলবো। সেটা হচ্ছে liner ও tramping। যে জাহাজগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর একই পোর্টগুলোতে ঘুরে ঘুরে আসে - সেই জাহাজগুলোকে liner vessel বলে। (প্যাসেঞ্জার লাইনার এবং ইনটারন্যাশনাল ফেরী ছাড়া) সাধারণত বড় কন্টেইনার জাহাজগুলো, কার ক্যারিয়ার ও Ro Ro Vessels ইত্যাদি লাইনার সার্ভিসে নিয়োজিত থাকে - আগে "জেনারেল কার্গো" জাহাজ দিয়েও কোথাও কোথাও liner সার্ভিস চালু থাকলেও, এখন তা নেই বললেই চলে! কোথাও কোথাও রেফ্রিজারেটেড শিপগুলোও লাইনার সার্ভিসে নিয়োজিত থাকতে পারে। যে জাহাজগুলো tramping করে, সে গুলোর কোন নির্দিস্ট রুট নেই (tramp কথাটার মানে ভবঘুরে বা যাযাবর - সেই হিসেবে নামটা যথার্থ)। বাল্ক ক্যারিয়ার, জেনারেল কার্গো বা লগ ক্যারিয়ার - এগুলো সাধারণত tramping করে থাকে। (more…)
সমুদ্রে জীবন -৩

সমুদ্রে জীবন -৩

আমি আসলে কখনোই ভাবি নি যে, সমুদ্রের জীবন নিয়ে এভাবে সিরিজ লিখবো। কিন্তু এখন লেখার জন্য কেমন যেন একটা চাপের মাঝে রয়েছি বলে মনে হচ্ছে। একজন তো বলেই ফেলেছেন "সমুদ্রে জীবন -৩ কই"? "সামু"-তে যেমন অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েছেন তেমনি ঘনভাবে নাস্তিক infested "আমার ব্লগের" অনেকেই বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন সমুদ্র সংক্রান্ত লেখাগুলোতে। এখানকার "big brass"-রা যদি বা এই সিরিজের লেখা পড়েও থাকেন, তবু মতামতে খুব একটা অংশগ্রহণ করেন নি। কিন্তু আমি বেশ অবাক হয়েছি যে "আমার ব্লগের" বেশ সিনিয়র ব্লগাররা, মতামতেও অংশগ্রহণ করেছেন! আজও জাহজের যে সব ব্যাপার সাধারণের কাছে খুব একটা পরিষ্কার নয় - সেসব নিয়ে আমরা একটু কথা বলবো। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ২

সমুদ্রে জীবন – ২

সমুদ্রে জীবন নিয়ে সাধারণের অনেক প্রশ্ন ও ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, "জাহাজ কি রাতে গভীর সমুদ্রে নোঙর করে থাকে? তারপর আবার সকাল হলে যাত্রা শুরু করে??" - যারা সমুদ্রের জীবন সম্বন্ধে সামান্য জ্ঞান রাখেন, তারাও জেনে থাকবেন যে, প্রশ্নগুলোর অবস্থান আসলে বাস্তবতা থেকে কত দূরে! প্রথমত, গভীর সমুদ্রে "নোঙর" করা যায় না - কারণ নোঙর করতে হলে, নোঙর বা anchor-কে সমূদ্রের তলদেশের মাটি বা ভূমি স্পর্শ করতে হবে - গভীর সমুদ্রে সাধারণত তার কোন সম্ভাবনাই নেই। দ্বিতীয়ত, জাহাজ একবার চলতে শুরু করলে একটানা রাতদিন চলতে থাকে, যতক্ষণ না গন্তব্যে পৌঁছায়। আমার অভিজ্ঞতায় বড় কন্টেইনার জাহাজগুলোতে আমি একটানা ১৬ দিন চলেছি Tokyo থেকে Balboa (Panama) আর Bulk Carrier- এ একটানা চলেছি ৪৫ দিন - Bangkok থেকে Cape ঘুরে Lagos। (more…)

সমুদ্রে জীবন

সমুদ্রে আমরা নাবিকরা যাযাবর জীবনে কেমন থাকি, কি করি - তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। আজ "সামু"তে দেখলাম একজন ব্লগার ইন্টিরিয়র ডেকোরেশন নিয়ে ছবি সমেত একটা পোস্ট দিয়েছেন। তখনই মনে হলো সমুদ্রপ্রেমী বা কৌতূহলীদের জন্য আমার প্রাক্তন একটা জাহাজের অফিস, বসার ঘর আর শোবার ঘরের একটা করে ছবি উপহার দিতে পারি। ইচ্ছা থাকলেও আজ এর চেয়ে বেশী লেখার সময় আমার নেই। তাহলে দেখুন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কন্টেইনার বহনকারী আমার একটা প্রাক্তন জাহাজে (আমার মানে, আমি যেটাতে sail করেছি) আমার অফিস, বসার ঘর আর শোবার ঘরটা দেখতে কেমন ছিল!  continue reading →

সমুদ্র বিষয়ক অনুভূতি

"সামু"-তে সমুদ্র নিয়ে অনেক ধরনের romanticism ও obsession রয়েছে অনেকের। সমুদ্র নিয়ে চিন্তা ভাবনাগুলোর অনেকটুকুই কেবলই স্বপ্ন, কল্পনা - আর তাই মিথ্যাও বটে। অনেকেই হয়তো বলবেন যে, "না হয় আমরা সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত কল্পনার রাজ্যেই আপন মনে একটু 'ভালো' থাকলাম - কি দরকার 'স্বপ্নভঙ্গের'?" আবার কেউ হয়তো বলবেন, "সুন্দরকে সত্য হতে হবে, অসত্য কি সুন্দর হতে পারে??" যাহোক, সমুদ্র নিয়ে এখানে [বা অন্য ব্লগেও] যে লেখালেখিগুলো হয়, সেগুলো পড়ে মনে হয়েছে যে, জীবনের অনেকটুকু সময় যে সমুদ্রে কেটে গেলো - তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা অন্যের সাথে শেয়ার করা উচিত। সেই মন নিয়ে নীচের পোস্টটা দেয়া হয়েছিল, পড়ে দেখুন: (more…)

আমি সমুদ্রের রূপ দেখেছি

আমি সমুদ্র দেখেছি, একবার নয়, বার বার - বহুবার। বন্দর থেকে বন্দরে, সাগর মহাসাগর পেরিয়ে ছুটে গেছি বার বার! কৌতূহলী তারাদের সাথী করে - সমুদ্রে, মহাসমুদ্র্রে কেটেছে জীবনের অগণিত নিঃসঙ্গ রাত - প্রায় একটা গোটাজীবন! একে একে সবই দেখেছি - সাগর, উপ-সাগর, মহাসাগর। বহু সূর্যোদয়, বহু সূর্যাস্ত দেখেছি- একবার নয়, বার বার - বহুবার। (more…)
  • 1
  • 2