বলুন তো এটা কোন দেশ – শেষ অধ্যায়(২)

[এর আগের পর্বটা রয়েছে এখানে:  বলুন তো এটা কোন দেশ – শেষ অধ্যায়(১) ] লেখাটা যখন শুরু করি, তখন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যে কথা বলবো তা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। তবু, কথায় কথায় অনেক কথা বলা হয়ে গেলো! চলুন, আবার আরবদেশের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আরবদেশ সম্বন্ধে আমি তেমন খারাপ কিছুই বললাম না। প্রশ্ন থেকে যায়: আরবদেশ থেকে তাহলে ইথারে এত Bad News ভেসে/বয়ে আসে কেন? “যাহা রটে, তাহা কিছুটা বটে” সেটাতো রয়েছেই – আর কোথাও কি কোন information gap থেকে যায় তাহলে? এই ব্যাপারে, নিজে এই ব্লগের ব্লগার নন - এমন একজন মুসলিমাহ্ আগেই তার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন নীচে লিংক দেয়া দু’টি পর্বে:   আমি Bad News-এর কারণ হিসাবে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাই: ১) প্রচার প্রচারণায় মুসলিমরা সব সময় খারাপ হবারই কথা – প্রচার, প্রপাগান্ডা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি সঙ্গত কারণেই ইসলামের সাথে ঠিক যায় না! (more…)

বলুন তো এটা কোন দেশ – শেষ অধ্যায়(১)

[এই সিরিজের আগের দু'টি পোস্ট রয়েছে এখানে: এই সিরিজের আগের দু'টো পোস্টে আমি হয়তো কারো কারো ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়েছি - সে জন্য দুঃখিত। ইচ্ছা করেই সবার আগ্রহ বাড়াতে চেয়েছিলাম - তাতে ঘটনাটা, আর সৌদী আরব দেশটাকে হয়তো অনেক দিন মনে থাকবে। কেউ কেউ হয়তো নতুন করে দেশটাকে মূল্যায়ন করবেন - জানতে চাইবেন! বিশ্বাসী মুসলিমদের জন্য দেশটা না না কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ - অথচ, আমরা দেশটা সম্বন্ধে বলতে গেলে কিছুই জানি না - যা জানি তাও ভুলে ভরা। (more…)

বলুন তো এটা কোন দেশ – ২

[এই ছোট্ট ব্যাপার নিয়ে দু'টো পোস্টের প্রয়োজন ছিল না. কিন্তু প্রথম পোস্টে কিছুতেই আর ছবি যোগ করা গেল না। কেন বুঝলাম না! হয়তো আমার ছবিগুলোর সাইজ বড় - সে জন্য (একেকটা 2MB-রও বেশী)। তাই ২ ভাগে ভাগ করতে হলো। আগের পোস্টটা রয়েছে এখানে: বলুন তো এটা কোন দেশ – ১ ] একসময় যখন নিয়মিত ব্লগিং করতাম, তখন আপনাদের অনেক দেশের গল্প শুনিয়েছি, সমুদ্রের গল্প শুনিয়েছি। এখনো "সমুদ্রে জীবন" নামের ঐ সিরিজটার ১-১৮ পর্বগুলো এই ব্লগে রয়েছে। কেউ চাইলে দেখতে পারেন। ব্লগিং একপ্রকার ছেড়ে দিলেও, কয়েকবারই ভেবেছি "সমুদ্রে জীবন" সিরিজটার আরো কয়েকটি পর্ব হয়তো লেখা বা পোস্ট করা যায়। .... আজ আপনাদের এমন একটা দেশের কিছু ছবি দেখাবো যেখানে আমি গত শীতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। দেশটির অনেক ক’টি সমুদ্রবন্দর থাকলেও এবং সেসবের কয়েকটিতে জাহাজে করে গিয়ে থাকলেও, ব্যস্ততার কারণে বা সময় স্বল্পতার কারণে সে দেশে তখন ঘুরে বেড়ানো হয়নি। এবার গিয়ে তাই ইচ্ছামত ঘুরে বেড়িয়েছি। ছবিগুলো দেখে আপনাদের দেশের নামটা আন্দাজ করতে বলবো! দেখুন তো আপনার অনুমান সত্যি হয় কি না! (more…)
বলুন তো এটা কোন দেশ – ১

বলুন তো এটা কোন দেশ – ১

একসময় যখন নিয়মিত ব্লগিং করতাম, তখন আপনাদের অনেক দেশের গল্প শুনিয়েছি, সমুদ্রের গল্প শুনিয়েছি। এখনো "সমুদ্রে জীবন" নামের ঐ সিরিজটার ১-১৮ পর্বগুলো এই ব্লগে রয়েছে। কেউ চাইলে দেখতে পারেন। ব্লগিং একপ্রকার ছেড়ে দিলেও, কয়েকবারই ভেবেছি "সমুদ্রে জীবন" সিরিজটার আরো কয়েকটি পর্ব হয়তো লেখা বা পোস্ট করা যায়। .... আজ আপনাদের এমন একটা দেশের কিছু ছবি দেখাবো যেখানে আমি গত শীতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। দেশটির অনেক ক’টি সমুদ্রবন্দর থাকলেও এবং সেসবের কয়েকটিতে জাহাজে করে গিয়ে থাকলেও, ব্যস্ততার কারণে বা সময় স্বল্পতার কারণে সে দেশে তখন ঘুরে বেড়ানো হয়নি। এবার গিয়ে তাই ইচ্ছামত ঘুরে বেড়িয়েছি। ছবিগুলো দেখে আপনাদের দেশের নামটা আন্দাজ করতে বলবো! দেখুন তো আপনার অনুমান সত্যি হয় কি না! (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৮

সমুদ্রে জীবন – ১৮

[গত পর্বে আপনাদের এই জাহাজটার গল্প বলেছিলাম] [গত পর্ব, “সমুদ্রে জীবন - ১৭”-তে যে জাহাজটার গল্প বলতে শুরু করেছিলাম - এবারের পর্বটাও সেই জাহাজেরই অসমাপ্ত গল্পের ধারাবাহিক বর্ণনা। যারা গত পর্বটা পড়েন নি, তাদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ, এই পর্ব পড়ার আগে, কষ্ট করে গত পর্বটা পড়ে নেবেন, ইনশা’আল্লাহ্!( যা এখানে রয়েছে: সমুদ্রে জীবন – ১৭ ) ] mariner77_1345654363_1-1225617308ivory জাহাজে পা রেখে মনে হলো একটা মৃত নগরী - আমাদের এদিককার জাহাজগুলো বন্দরে আসলে দারুণ রকমের একটা প্রাণ-চাঞ্চল্য দেখা যায় - এখানে সেই প্রাণের স্পন্দনটা একেবারেই অনুপস্থিত মনে হলো। আমাদের সাথে ওদের জীবনযাত্রার পার্থক্য বোঝার পর্বের সূচনা হলো এভাবেই! আমাকে ঐ জাহাজে আমার ডিপার্টমেন্টের শীর্ষব্যক্তির অফিসে, তার কাছে, নিয়ে যাওয়া হলো - যার কাছ থেকে আমার জাহাজ takeover করার কথা। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৭

সমুদ্রে জীবন – ১৭

যে জাহাজটির গল্প নীচে বলা হয়েছে, এটা তারই একটা ছবি। খুব সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান/পুসান-এর আশেপশে কোথাও ছবিটি তোলা হয়েছে। mariner77_1341768001_1-shp [এর ঠিক আগের র্পবটা রয়েছে এখানে: সমুদ্রে জীবন – ১৬] "সমুদ্রে জীবন" সিরিজটায় আসলে তেমন কোন ধারাবাহিকতার ব্যাপার নেই, প্রয়োজনও নেই তেমন - কখনো হয়তো একটা পর্বে বর্ণিত ঘটনাগুলোর পরবর্তী ঘটনাগুলো ঠিক পরের পর্বেই চলে এসেছে; আবার কখনো হয়তো পর পর লেখা দু'টো পর্বের ঘটনাগুলোর সময়ের ব্যবধান ছিল ৫ বৎসর। তবে পর্বগুলিতে বর্ণিত ঘটনা বা অভিজ্ঞতাগুলো সব আমার নিজের জীবনের - এটাই বিভিন্ন পর্বের ঘটনা বা অভিজ্ঞতার মাঝের প্রধান যোগসূত্র। যাহোক, গত পর্বটা (সমুদ্রে জীবন - ১৬) ছিল একটু অন্য ধরনের - যে জন্য ঐ পর্বের শুরুতে আমি বলেছি যে, ঐ পর্বের শিরোনামটা "সমুদ্রে জীবন" না হয়ে বরং "সমুদ্রগামীদের জীবন" হলে হয়তো যথার্থ হতো! ঐ পর্বটা পড়ে, এক ভাই বার্তায় আমাকে আরেকজন ব্লগারের একটা পোস্ট দেখতে বললেন এই বলে যে, তার মতে ঐ পোস্টকে আমার পোস্টের একপ্রকার anti-theses বলা যায়। (more…)
মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – ২: একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – ২: একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

[আমাদের একটা ছোট্ট ই-মেইল গ্রুপ আছে - যার সদস্যরা নিজেদের মাঝে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি share করে থাকেন। সৌদী আরবে থাকেন এমন একজন তরুণী মুসলিমাহ্, তার একটা বাংলা লেখার ২য় পর্বটা কাল ঐ গ্রুপে দিয়েছেন। প্রথম পর্বটা আগেই আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি ( https://marinerbd.wordpress.com/2015/10/24/মরুর-প্রাচীর-পেরিয়ে-একজন/) । ভাবলাম ২য় পর্বটাও আপনাদের সাথে শেয়ার করি।] মূল লেখা: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সৌদি আরবে সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রা নিয়ে যখন প্রথমবার লিখতে বসি, আমার উদ্দেশ্য ছিল ওদের নিয়ে মানুষের মনে যে ভুল ধারণা আছে, তা যেন একটু হলেও বদলায় - তার চেষ্টা করা। সেই সাথে এই ভয়ও ছিল যে, অনেকেই হয়ত লেখাটি সহজভাবে নিতে পারবেন না - স্বাভাবিক ভাবেই আমরা যদি আজীবন ভুল তথ্য জেনে বড় হই, হঠাৎ কেউ সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বললে মেনে নেয়া তো সহজ নয়। তাই আমি কিছুটা ভীত ছিলাম লেখার সময়। আবর এমনও ভয় ছিল যে কেউ ভাবতে পারেন, এসব লেখার আড়ালে হয়ত কোন ব্যক্তিগত ফায়দা রয়েছে। হয়ত বা সেকারণেই আরও অনেক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা লেখা হয়নি। তাই আমার দেখা এদেশের আরও কিছু ‘অজানা’ দিক তুলে ধরছি এখানে। (more…)
মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

মরুর প্রাচীর পেরিয়ে – একজন সৌদী প্রবাসী মুসলিমাহর উপলব্ধি

[আমাদের একটা ছোট্ট ই-মেইল গ্রুপ আছে - যার সদস্যরা নিজেদের মাঝে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি share করেন। সৌদী আরবে থাকেন এমন একজন তরুণী মুসলিমাহ্ আজ ঐ গ্রুপে একটা বাংলা লেখা দিয়েছেন। আমার পড়ে ভালো লাগলো - ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি।] মূল লেখা: সৌদি আরব নিয়ে জনসাধারণের ধারণা একটু অদ্ভুত। কেউ ভাবেন এখানে লোকে হাইওয়েতে চলাচল করে উটের পিঠে চড়ে। কেউ ভাবেন এখানকার লোকগুলো সব বেদুইন। দেশ থেকে হজ্জ বা উমরা করতে এসে এখানকার দোকানপাট দেখে যখন সবার মাথা ঘুরে যায়, খুব অবাক লাগে আমার--- এদেশটাকে মনেহয় লোকে under developed বলে ধরেই এখানে আসে। একবার দাহরান এর King Fahad University তে আমেরিকা থেকে একজন ভারতীয় হিন্দু প্রফেসর এলেন ট্রেনিং দিতে। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস এর ঢুকে উনি বিশ্বাস এ করতে পারছিলেন না যে এটা সৌদি আরব--- সম্ভবত তিনি আশা করছিলেন উন্নত বিল্ডিং এ না, তাঁবুতে থাকে সকলে। আবার একদল মানুষ আছেন যারা সৌদি আরব এর সচ্ছলতার কথা বড় বেশী ভালভাবে জানেন। তাঁরা এখানে আসেন সেই উদ্দেশ্য নিয়েই--- দিনের পর দিন এখানে থাকেন, এখানকার সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আবার এদেশেরই বদনাম করেন। খুব কম মানুষই এই মরুভূমির দেশটির অসাধারণ সুন্দর দিকটি দেখতে পান অথবা দেখতে চান। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৬

সমুদ্রে জীবন – ১৬

[জীবনে এর চেয়ে অনেক বড় বড় ও অনেক সুন্দর সুন্দর জাহাজে sail করে থাকলেও, এই জাহাজটার প্রতি আমার একটা বিশেষ দুর্বলতা ছিল/আছে - কারণ, এই জাহাজটা যখন বানানো হয়, তখন আমি দক্ষিণ কোরিয়ার Kojeতে Samsung-এর শিপইয়ার্ডে ৫৫দিন অবস্থান করে এর নির্মান কাজের শেষ অংশটা তদারক করি এবং তারপর, এর Sea Trial-এ অংশগ্রহণ শেষে জাহাজটা Takeover করি। আমাদের কোম্পানী পরে তাদের Bulk Carrier Fleet গুটিয়ে ফেলতে চাইলে, অন্যান্য Bulk Carrier-এর সাথে এই জাহাজখানাও বিক্রী করে দেয়। ছবিতে জাহাজখানাকে বসফরাস প্রণালীতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের পাশ দিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।] (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৫

সমুদ্রে জীবন – ১৫

[এই সিরিজের একটা লেখা অনেকদিন পরে পোস্ট করা হলো। কেউ চাইলে এর ঠিক আগের লেখাটা এখানে দেখতে পাবেন: উপরে যে জাহাজের ছবিটা দেয়া আছে, ঐ জাহাজে করে যাত্রার বর্ণানাই নীচে আপনাদের সাথে শেয়ার করা হলো !] ৯/১১-র পর পর আমি যে জাহাজে জয়েন করি, সেই জাহাজটা চলতো Singapore - Jebel Ali (Dubai) - Fujairah - Navashiva (Bombay) - Singapore এই loop-এ। হঠাৎই খবর আসলো আমাদের রুট বদলে যাচ্ছে এবং আমরা US route-এ যাচ্ছি। মালোয়েশিয়া ততদিনে কি একটা বেয়াদবী যেন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে - আমার একদম বিশদ মনে নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণ নিয়ে, কি যেন বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন সে দেশের শীর্ষ-স্থানীয় নেতারা। তাতেই যুক্তরাষ্ট্র, মালোয়েশিয়ার উপর খুব ক্ষ্যাপা। শোনা যাচ্ছিল: কোন জাহাজে মালোয়েশিয়ান বা পাকিস্তানী শীর্ষ-স্থানীয় অফিসার থাকলে, সেই জাহাজকে কখনো বন্দরে (বিশেষত নিউ ইয়র্কের মত বন্দরে) ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না - আবার কখনো বন্দরে ঢুকতে দেয়া হলেও জাহাজের কাউকেই "shore leave" দেয়া হচ্ছে না অর্থাৎ মাটিতে পা রাখতে দেয়া হচ্ছে না - জাহাজের 'port-hole' দিয়ে মাটি দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১৪

সমুদ্রে জীবন – ১৪

তেরোটি পর্ব লেখার পর আমি সঙ্গত কিছু কারণে সিরিজটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম - যার একটি ছিল আমার ব্লগিং-এর উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি। অনেকেই সিরিজটার কথা এখন হয়তো ভুলে গিয়ে থাকবেন, আর তাই সেটাকে ঘিরে যে "বিনোদনের" পরিবেশ গড়ে উঠেছিল তার রেশও এখন হয়তো কেটে গিয়ে থাকবে, ইনশা'আল্লাহ্! তাই আমার ব্লগিং-এর উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে আবার সিরিজটা শুরু করার চিন্তা করলাম। ভেবেছিলাম ইউরোপের কথা এখন আর বলবো না! তবু অন্য একটা প্রসঙ্গে মনে হলো আরেকটু বলে নিই - পরে না হয় ধারাবাহিকতায় ফিরে যাওয়া যাবে - যদিও এখন যে কেবলই ইউরোপের কথা আসবে তা নয়। ৯/১১ পর থেকে সারা বিশ্বে মুসলিমদের অবস্থা ও অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যারা একটা মুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের জীবনেও যে নানাবিধ পরিবর্তন এসেছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু মুসলিম নাবিক - বিশেষত যারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ান, তাদের না বুঝে উপায় ছিল না যে, পৃথিবীতে যুগান্তকারী একটা প্রলয়কান্ড ঘটে গেছে! (more…)

সমুদ্রে জীবন – ১৩

এই সিরিজের লেখাগুলো লিখতে গিয়ে চেস্টা করি, নিজের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য বা গাল-গপ্প যেন উঠে না আসে - তথাপি কিছু চলেই আসে! ভ্রমন বা জীবনের কথা যেখানে থাকবে, তা তো কোন না কোন ব্যক্তি-আশ্রিতই হবে! এ পর্যন্ত কারো কাছ থেকে তেমন কোন আপত্তির আভাষ পাই নি - তবু, কারো বিরক্তি লাগলে নিঃসঙ্কোচে জানাবেন - ইনশাল্লাহ্, তখন আরো নৈর্ব্যক্তিক করার চেষ্টা করবো! আমি চেস্টা করছি একজন নাবিকের জীবনটা সমুদ্রে কেমন কাটে/কাটলো - চড়াই-উৎরাই পার হয়ে একজন মানুষ হিসাবে তার জীবন কি ভাবে evolve করে - সে সম্বন্ধে একটা ধারণা দিতে - লেখার পেছনে কলম (বা কী-বোর্ড) হাতে মানুষটা ঠিক কে - irrespective of that যেন ব্যাপারগুলো বোধগম্য হয় বা উপস্থাপনযোগ্য হয়! (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১২

সমুদ্রে জীবন – ১২

"সমুদ্রের অনেক রূপ, অনেক রং - প্রতিনিয়তই তার রূপ ও রং বদলাতে থাকে। অনেকে মনে করেন সমুদ্রগামী মানুষের জীবন কি একঘেঁয়ে আর বিরক্তিকর হবার কথা - যে দিকে তাকাবে সেদিকেই তো সে শুধু সীমাহিন জলরাশি দেখবে। এটা ঠিক যে, কোন কোন মানুষের চোখে সমুদ্রের অগণিত ভিন্ন রূপ ধরা নাও পড়তে পারে। তবে যাকে আল্লাহ্ দৃষ্টি দিয়েছেন - সে দেখবে আপাত দৃষ্টিতে বৈচিত্রহীন সীমাহীন জলরাশি মনে হলেও, সেখানে কোন দুইটি সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় একরকম নয়, যেমন একরকম নয় কোন দুটি ভোর বা সন্ধ্যার আকাশের রং। আর জলরাশির রং? সেটার বৈচিত্র ভাষায় বোঝানো কঠিন - হালকা নীল থেকে শুরু করে সবুজ পর্যন্ত যত shade হতে পারে তার সব তো দেখা যায়ই - আবার আবহাওয়ার ও পানির গভীরতার পরিবর্তনের সাথে সাথে গাঢ় নীল থেকে প্রায় কালো রং ধারণ করে সমুদ্র-জলরাশি। বৈচিত্রের আরেকটা দিক হচ্ছে জলের surface-এর চেহারা। কখনো তা কাঁচের মত সমতল - জাহাজের গতিকে তখন খুব নিষ্ঠুর মনে হয়, সেই কাঁচের মত সমতল নিরবচ্ছিন্নতাকে ভেঙ্গে এগিয়ে যায় বলে। আবার ঐ একই সমতল কিছুক্ষণ পরেই হয়তো কয়েক মিটার উচ্চতার অগণিত ঢেউয়ে ভরে যায়।" প্রথম যখন সমুদ্র নিয়ে লিখবো ভেবেছিলাম, তখন উপরের কথাগুলো লিখে এমন একটা ব্লগে খসড়া হিসেবে save করে রেখেছিলাম, যার system-টা বেশ user friendly মনে হয়েছিল। সেই user friendly মনে করাটাই আমার জন্য কাল হলো। বেশ ইনিয়ে বিনিয়ে - অসুরের সুর সৃষ্টির প্রচেষ্টার মত করে - "সমুদ্রে জীবন-১২" একটু একটু করে লিখছিলাম bits and pieces-এ । লেখার পরে save করতে ভুল হতো না । কিন্তু হঠাৎ একদিন save করতে গিয়ে কোন bug-এর কারণে এক অদ্ভূত ব্যাপার ঘটলো - পুরা লেখাটা হারিয়ে গিয়ে একটা "no title" শিরোনামের খালি পাতা আসলো। সেদিনের কাজের আগের অনেকটুকু কাজও সাথে হারিয়ে গেল। ঐ ব্লগের support team-কে জানালাম। তারা রেসপন্স করতে করতে দুই/তিন দিন চলে গেল। বললো, চেষ্টা করে দেখবে উদ্ধার করা যায় কি না - কিন্তু শেষ পর্যন্ত একদিন জানালো কিছুই করার নেই। ছাত্র-জীবনে আমি সব সময় চাইতাম, পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে হয়ে শেষ হয়ে যাক। পূর্ণ প্রস্তুতির পরে যখন অন্যান্যদের প্রস্তুতি হয়নি বলে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হতো - তখন খুব হতাশ লেগেছে সব সময়। লেখাটা হারিয়ে গেলে অনেকটা সে রকম অনুভূতিই হলো আমার। গোটা রমযান মাসে আর লেখাটা পুনরায় শুরু করার কোন এনার্জি বা সময় পেলাম না! যাহোক, আগের মূল লেখাটার মত না হলেও, চেস্টা করবো "সমুদ্রে জীবন-১২" লেখাটাকে reconstruct করতে। "সমুদ্রে জীবন - ১১" -তে San Francisco Bay Area নিয়ে কথা হচ্ছিল। ওখানে যেতে শুরু করার ঠিক আগে আগে আমি দূর-প্রাচ্য থেকে ইউরোপের মাঝে যাতায়াতকারী একটা বড় কন্টেইনার জাহাজে ছিলাম - in fact ওটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় container জাহাজ। ঐ জাহাজটায় আমি বহু বছর পরে, আবার "জাহাজে করে" ইংল্যান্ডে যাই। এর আগে পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডের উত্তরপূর্ব অংশের একটা শহরে বেশ কিছুদিন ছিলাম। সিলেটি হবার বদৌলতে, UK-তে আমার অনেক আত্মীয়স্বজন থাকলেও, পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে থাকা সময়টাতে কেন যেন আত্মীয়-স্বজন - এমন কি অন্য শহরে থাকা বন্ধুদেরও তেমন একটা খোঁজ-খবর নেয়া হয় নি। আমার বেশ মনে আছে, আমার বেশ কাছের একজন বন্ধু - আমারই মত - পেশাগত পড়াশোনার জন্য তখন Southampton-এ থাকতো। আমি পরীক্ষা ইত্যাদি শেষে যেদিন দেশে চলে আসবো, তার আগের দিন Southampton-এ তার কাছে গিয়ে তার বাসায় থাকলাম - সে আমাকে পরদিন তার গাড়ী করে Heathrow-তে তুলে দিয়েছিল - ব্যস ঐ পর্যন্তই। আমি কিন্তু কখনো তখন London-এ আমার কয়েক ডজন আত্মীয় স্বজনের কারো খোঁজও নিই নি - বা কারো বাসায় যাইও নি। এ নিয়ে তাদের কেউ কেউ বেশ মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন। এরপর তাদের কেউ কেউ প্রায়ই খোঁজ নিয়েছেন আমি আর UK যাই কি না । আমাদের কোম্পানীর জাহাজগুলো তখন UK-র ২টা বন্দরে যেতো - Felixstowe এবং Southampton। আমার জাহাজটার loop-এ তখন Felixstowe অন্তর্ভুক্ত ছিল। Felixstowe-র ঠিক আগের port ছিল জার্মানীর Hamburg। ঐ loop-এ প্রথম voyage-এ, জাহাজ Hamburg থাকতেই, ছেলেবেলায় আমাকে খুব আদর করতেন, আমার এমন এক মামার (আপন মামা নন) সাথে কথা-বার্তা ঠিক হয়ে রইলো - আমি সুযোগ পেলে Felixstowe থেকে London-এ তার কাছে বেড়াতে যাবো। তিনি আমাকে Felixstowe থেকে London-এর ট্রেনে London (Liverpool street) যাবার পদ্ধতি বাতলে দিলেন। বললেন Liverpool street-এ গিয়ে তাকে একটা ফোন করে তবে টিউবে উঠতে। টিউব রেলে ওখান থেকে আমি King's Cross -এ পৌঁছানোর আগেই, তিনি ঐ স্টেশনে এসে থাকবেন - বলা বাহুল্য যে, তার বাসা King's Cross -এর খুব কাছের একটা রাস্তা Wharton Street-এ অবস্থিত। ঐ মামাই আমার UK-তে অবস্থিত সবচেয়ে ঘনিস্ট রক্তসম্পর্কীয় নন - আমার ১টা আপন খালাত ভাই এবং ২টা আপন মামাতো বোনও ওখানে থাকতো/থাকে। তথাপি ঐ মামাকেই আমার সবচেয়ে কাছের মনে হতো, আমার সবচেয়ে ঘনিস্ট রক্তসম্পর্কীয় না হলেও, তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ট আত্মীয় - আত্মার সম্পর্কের দিক থেকে সবচেয়ে কাছের। যাহোক, এখানে উল্লেখ্য যে container জাহাজের নাবিকদের জীবনে "বন্দরে অবস্থানের সময়টা" অত্যন্ত মূল্যবান - যে তুলনায় পশ্চিমা জগতের আপাত দ্রুতগতি জীবনটাকেও অনেকসময় ঢিলে-ঢালা মনে হতো। যেমন ধরুন Felixstowe, বন্দর হিসেবে বড় হলেও শহর হিসেবে "ছোট্ট একটা মফোস্বল" শহর বলা যায়। সকাল ৬টার দিকে ওখান থেকে Ipswich পর্যন্ত একটা ২ বগির ধীর-গতি ট্রেন চলতে শুরু করে, যা রাত ১০টার পর পর বন্ধ হয়ে যায় - তাও আবার ঘন্টায় একটি মাত্র ট্রেন - যা ২৬ মিনিটে Felixstowe থেকে Ipswich যায়। একটা ট্রেন কোন কারণে মিস করলে, পাক্কা এক ঘন্টা সময় - আপনার "বন্দরে স্বল্প অবস্থানের অবকাশ" থেকে হারিয়ে গেল। তখন রাগে-দুঃখে আঙ্গুল কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। Ipswich থেকে London অবশ্য ঘন ঘন ট্রেন পাওয়া যায় - যেগুলো Norwich বা অন্যন্য শহর থেকে Ipswich হয়ে যাতায়াত করে। Ipswich থেকে London যেতে ১ঘন্টা ১০ মিনিটের মত সময় লাগে। খুব ভালো ভাবে প্ল্যান করতে পারলে ২ ঘন্টায় জাহাজ থেকে London (Liverpool street)-এ পৌঁছানো যায়। কখনো এমন হয়েছে যে, আত্মীয় স্বজনের সাথে একটু বেশী সময় কথা বলার খেসারত দিতে হয়েছে - ফেরার পথে রাতে Ipswich থেকে Felixstowe-র ট্রেন মিস করে ২৬/২৭ পাউন্ড টেক্সি ভাড়া গুনে। প্রথম যেবার জাহাজ থেকে মামার বাসায় গেলাম, সেবার অনেক অজানা বিষয় ছিল - যেগুলোর জন্য কিছু বাড়তি সময় ক্ষেপনও হয়েছে। প্রথমবারের পর, ঐ বিষয়গুলো আর কোন factor হয়ে দাঁড়ায় নি। যেমন ধরুন টিউব ধরে King's Cross না গিয়ে Liverpool street থেকে একটা টেক্সি ধরে সরাসরি মামার বাসায় চলে গেলে, আমার অনেকটুকু দুর্লভ সময় বেঁচে যেতো। প্রথম যেবার ওভাবে মামার কাছে গেলাম, মামা তার বড় মেয়েকে নিয়ে King's Cross-এ এলেন আমাকে নিয়ে যেতে - আমাকে বললেন সাব-ওয়ে থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে থাকতে। কিন্তু নিজেই আর সেখানে থাকলেন না। আমার দেরী হচ্ছে ভেবে, টেনশনে, নেমে গেলেন প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য - আরো একটা কারণও ছিল তাঁর টেনশনের: প্রায় ২৭ বছর পর আমাকে দেখে তিনি চিনবেন কি না! প্ল্যাটফর্মে আমাকে না পেয়ে, আবার হন্তদন্ত হয়ে উপরে ছুটে আসলেন - কন কনে শীতে আমাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধরে নিলেন আমিই তার আত্মীয় - আমি অবশ্য একমুখ পাকা দাড়ি সমেতই তাকে চিনতে পারলাম। মামার মেয়ে আমাদের ড্রাইভ করে তাদের বাসায় নিয়ে গেলো। পথে তিনি দেশী দোকান থেকে দেশী বড় মাছ কিনলেন। বাসায় গেলে রীতিমত উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি, তার স্ত্রী (যিনি অন্য সম্পর্কেও আমার আত্মীয়া), তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে এবং তার মেয়ে-জামাই (আমার আপন খালাত ভাই ) সবাই মিলে আমাকে ঘিরে ধরে বসে চুটিয়ে আড্ডা দিতে শুরু করলো - London-এর Wharton Street-এর ঐ বাসাটা কয়েক ঘন্টার জন্য একটা মিনি সিলেটে রূপান্তরিত হলো। আড্ডার মুখ্য subject-টা অবশ্য বেশ ব্যতিক্রমী একটা বিষয় ছিল - আমরা প্রায় সারাক্ষণই "ইসলাম" নিয়ে কথা বলছিলাম! ইউরোপ আমেরিকায় ছড়িয়ে ছিঠিয়ে থাকা আমার অগণিত আত্মীয়-স্বজনের ভিতর ঐ পরিবারটিই ছিল একমাত্র পরিবার, যাদের সত্যিকার অর্থে অনুশীলনরত "মুসলিম" বলা যায়। ৫৬ দিন পরে, ইনশা'আল্লাহ্, "আবার আসিব ফিরে" - এমন একটা কথা দেয়া-নেয়ার ভিতর দিয়ে আমাদের ঐ দিনের আড্ডার অবসান হলো। এর মাঝে সিলেটি রেসিপির "হাতকরা", শুটকি আর বড় মাছ ভাজা - এধরনের অনেক আইটেমের খাওয়া-দাওয়া হলো। এরপর ঐ জাহাজে বা অন্যান্য জাহাজে আরো বহুবার ঐ বাসায় যাওয়া হয়েছে। কখনো ওখানে গোটা দিন বা overnight-ও থেকেছি। Felixstowe-র Trinity Dock -এর কন্টেইনার বার্থগুলোর একটা দুর্বলতা ছিল - সমুদ্রের হাওয়ার কাছে উন্মুক্ত বলে, আবহাওয়া খারাপ থাকলে একটু ঝড়ো হাওয়া বইলে gantry craneগুলো আর operate করতো না। এমনও হয়েছে যে, কোন কার্গো ওঠানামা ছাড়াই, জাহাজ হয়তো ২৪ বা ৩৬ ঘন্টা এমনি বসে থেকেছে - যেটা কোন লাইনার container জাহাজের জন্য এক বিরল ব্যতিক্রম। আমার জন্য সেটা সব সময়েই অনেকটুকু বাড়তি সময় London-এ থাকার একটা সুযোগ হয়ে এসেছে। ঐ পরিবারের সাথে জাহাজী জীবনে আবার নতুন করে পরিচিত হওয়াটা আমার জীবনের একটা turning point হয়ে যায়! (more…)
সমুদ্রে জীবন – ১১

সমুদ্রে জীবন – ১১

সে বার ছোট বুশ প্রথম যখন নির্বাচনে জেতেন, তখন আমরা ছিলাম ক্যালিফোর্নিয়ার Oakland-এ। আমি বাইরেও গিয়েছিলাম, কিন্তু রাস্তাঘাটে এমন কিছুই চোখে পড়ে নি, যা দেখে মনে পড়বে যে নির্বাচন চলছে। আর কন্টেইনার জাহাজের স্বল্প সময়ের বন্দর উপস্থিতির মাঝে কেউ টেলিভিশন দেখে না। যা হোক, নির্বাচনের পরের দিন ভোরে আমরা Oakland থেকে sail করলাম Taiwan-এর Kaohsiung বন্দরের উদ্দশ্যে। জাহাজকে বন্দর থেকে, বাইরে অর্থাৎ সমুদ্রে রেখে আসতে একজন Pilot যথারীতি জাহাজে এলেন। যারা নতুন নতুন আমাদের কাছ থেকে জাহাজী গল্প শুনছেন, তাদের অবগতির জন্য বলছি যে, যে কোন বন্দরে, যে কোন বার্থে যাবার জন্য ঐ বন্দরের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তি, বহির্নোঙরে বা সমুদ্রেই জাহাজে আরোহন করেন - পথ-দেখিয়ে-নিয়ে-যাওয়া ঐ সব লোককে জাহাজী ভাষায় Pilot বলা হয়। সাধারণত দ্রুতগামী Pilot Boat-এ করে এসব Pilot-রা সমুদ্রের গভীরে ২/১ মাইল থেকে শুরু করে অনেক সময় প্রয়োজনে ৮/১০ মাইল দূরে গিয়ে জাহাজে ওঠেন - অথবা - বন্দর ছেড়ে যাবার সময় তারা বার্থে এসে জাহাজে ওঠেন, তারপর জাহাজটাকে সমুদ্রে নিরাপদ দুরত্বে নিয়ে গিয়ে, সেখানে জাহাজ থেকে নেমে অপক্ষমান Pilot Boat-এ করে আবার বন্দরে ফিরে আসেন । (more…)
সমুদ্রে জীবন-১০

সমুদ্রে জীবন-১০

ঝড়ের আর জাহাজ-ডুবির গল্প শোনানো হলো গত সংখ্যায়। এর আগের আরেকটি সংখ্যায় বলেছিলাম যে, কিভাবে ঝড়-তুফানের আগাম/আগমনী সংবাদ পেলে আমাদের বন্দর থেকে বের করে দেয়া হয়। সকল ইন্ডাস্ট্রীর মতই, এখানেও মানুষকে নাম্বার হিসাবেই দেখা হয়। একটা জাহাজ-কোম্পানীর মালিক পক্ষের কাছে, কোন একটা দুর্ঘটনায় তাদের "সম্পদ" নষ্ট হলো কি না - সেই প্রসঙ্গটাই আগে আসে। মানুষের ব্যাপারে আসলে, তাদের কোন compensation দিতে হবে কি না , না কি ইনস্যুরেন্সের ঘাড়ে সব চাপিয়ে দেয়া যাবে, এসব চিন্তা ভাবনাই প্রাধান্য পায়। তাছাড়া কোম্পানীর বদনাম হবার ভয়টাও তাদের থাকে। আজকালকার ব্যয়বহুল কন্টেইনার জাহাজগুলোতে, জাহাজে কমর্রত লোকজনের উপর এত "চাপ" থাকে যে, অনেক সময় সে চাপের বশবর্তী হয়েই মানুষ অনেক ধরনের ভুল করে বসে! (more…)
সমুদ্রে জীবন -৯

সমুদ্রে জীবন -৯

একটা জাহাজের structure বা form কেমন, তার উপর নির্ভর করবে সে কি রকম দুলবে - সেই দোলাটা দ্রত লয়ে হবে না ধীর লয়ে হবে - আর সেই rolling বা pitching মানুষের কাছে সহনীয় হবে না অসহনীয় হবে তাও। আবশ্য কে কতটুকু দোলা-দুলি সহ্য করতে পারবেন, তা খানিকটা জন্মগতও বটে। এই জন্মগত ব্যাপারটাও আবার কখনো সময়ের সাথে সাথে সেরে যায় - আবার কারো ক্ষেত্রে যতই অভিজ্ঞতা হোক না কেন, কিছুতেই তা কাটতে চায় না! আমাদের একজন tough guy সিনিয়র ছিলেন - যার নিছক উপস্থিতিই জুনিয়রদের জন্য একটা ভয়ের ব্যাপার ছিলো। আমি তার সাথে কখনো sail করিনি, তবে আমার ব্যাচমেটরা যারা করেছে, তারা বলেছে যে, জাহাজে rolling/pitching শুরু হলে তার মুখটা শিশুদের মত অসহায় রূপ ধারন করতো। গড়ে মেয়েরা বেশী sea sick হয় - কেউ কেউ গোটা voyageই শুয়ে কাটায় - একদম মাথা তুলতে পারে না। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। একবার আমরা একটা জেনারেল কার্গো জাহাজে আমাদের এদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলাম। জিব্রাল্টারের পর থেকে আটলান্টিকে একটানা প্রায় ৭/৮ দিন ৩০/৩৫ ডিগ্রী রোলিং হলো। তখন মেস রূমে খাবার খেতে ৫/৬ জন মাত্র আসতেন - তার ভিতর নিয়মিত একজন ছিলেন এক মহিলা - একজন অফিসারের স্ত্রী। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ৮

সমুদ্রে জীবন – ৮

mariner77_1279768653_1-20d4কেবল আমি নই, যে কোন জাহাজীকেই যে কয়টি recurrent প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, তার একটি হচ্ছে:"তুমি/আপনি কখনো সমুদ্রে ঝড়ে পড়েছো/পড়েছেন? সে সময় তোমরা/আপনরা কি করেন?" গল্পে, সাহিত্যে ঝড়ে পড়া পাখিদের বা পথ হারানো সাঁঝের পাখিদের নিয়ে, সহানুভুতি দেখিয়ে, অনেক কথা লেখা হয়। জাহাজীদের জন্য বাস্তবতাটা একদম উল্টো! যে সব অঞ্চলে হঠাৎ করেই একটা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে ঝড় হবার সম্ভাবনা দেখা দেয় - সে সব অঞ্চলের বন্দরে, একটু পুরানো নাবিক মাত্রই হয়তো এই পরিস্থিতিটার অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকবেন যে, সব কিছুই নিয়মিত বা স্বাভাবিকভাবেই চলছিল - হঠাৎ দেখলেন সাজ সাজ রব। কি ব্যাপার? জাহাজকে যথাশীঘ্র সম্ভব বন্দর ছেড়ে বাইরে চলে যেতে হবে! বাইরে মানে এমন কি Anchorage-এও নয় - একেবারে সমুদ্রে ! বরং Anchorage-এ যে সব জাহাজ অপেক্ষমান ছিল (বিশেষত inner-anchorage যদি হয়), তাদেরও বলবে বাইরে বা দূরে চলে যেতে। আমার জীবনে এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। পূর্ব-এশিয়ায় জাপান, কোরিয়া, চীন ও তাইওয়ানের বন্দর সমূহে, "টাইফুন" মৌসুমে, যে কারো এমন অবস্থায় পড়তে হতে পারে। (more…)
সমুদ্রে জীবন -৭

সমুদ্রে জীবন -৭

জাহাজে অসুখ-বিসুখ আর disaster বা accident-এর পর্বটা তো সম্পূর্ণ শেষ হলো না - কিছু রয়েই গেল/গেছে। আমার জাহজে কখনো খুব মারাত্মক কিছু ঘটে নি - তবে আমাদের কোম্পানী ৬০+ জাহাজের অনেক কয়টিতেই দুর্ঘটনাজনক মৃত্যু যেমন ঘটেছে, তেমনি জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে যাবার মত দুর্ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের কোম্পানীতে নিজেদের জাহাজগুলোর মাঝে সার্কুলেশনের জন্য বেশ কিছু ম্যাগ্যাজিনের মত জিনিস ছিল - যার একটি ছিল Fleet Safety News । এর মাধ্যমে আমরা কোন জাহাজে কি ঘটলো তা জানতে পারতাম। অধিকাংশ দুর্ঘটনার সাথে human error-এর একটা সম্পর্ক থাকতো! মানুষ তো আর রোবট নয় - সে কখনো একটা জানা ব্যাপারও ভুলে যেতে পারে - আবার কোন একটা ব্যাপার তার চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ৬

সমুদ্রে জীবন – ৬

হঠাৎ মনে হলো এর আগের একটা পোস্টে, (আমি যখন ঐ জাহজে ছিলাম, তখনকার) আমার কেবিনের একটা জানালার (বা port hole-এর) ছবি দিয়েছিলাম! কেউ সেটা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেন নি যে:এমন সাধারণ একটা জিনিসের ছবি কেন দিলাম? আর আমিও ভুলে গিয়েছি! এই ছবিটা তোলার একটা বিশেষ কারণ ছিল। সাধারণত জাহাজের জানালাগুলোর উচ্চতা এর অর্ধেক, বা তারও কম হয়। কিন্তু দঃ কোরিয়ায় বানানো ঐ জাহাজটিতে (এবং এর আগে, এর চেয়ে কিছু ছোট দঃকোরিয়ায় বানানো আমার sail করা আরেকটি জাহাজেও) কেবল সবচেয়ে সিনিয়র দু'জন অফিসারের দু'টো কেবিন - যে কেবিনগুলোর মুখ জাহাজের সামনের দিকে - সেগুলোতে এই বিশাল সাইজের port hole-গুলো লাগানো আছে। অন্য জাহাজের জানালা বা port hole-গুলোকে, চোখ/মুখ রেখে যেন অনায়াসে বাইরে তাকানো যায় - সে রকম উচ্চতায়ই স্থাপন করা হয়, তবে কাঁচের অংশটা বড়জোর কারো বুকের নীচ পযর্ন্ত বিস্তৃত থাকে। (more…)
সমুদ্রে জীবন – ৫

সমুদ্রে জীবন – ৫

সমুদ্রে জীবনের আরেকটি বিষয়ে আলোকপাত করা হয় নি - সেটা হচ্ছে সমুদ্রে থাকা অবস্থায নাবিকদের, বা সোজা বাংলায় জাহাজীদের জীবনে কোন দুঘর্টনা ঘটলে বা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে কি পরিস্থিতির উদ্ভব হয় বা কি ভাবে সেগুলো মোকাবেলা করা হয়? প্রথমে on board [বা জাহাজে অবস্থানকারী] চিকিৎসকের কথা আলোচনা করা যাক! সাধারণত প্যাসেঞ্জার লাইনার বা Europe/America-য় Inter-Island/International Ferries ছাড়া, মালবাহী জাহাজগুলোতে ডিগ্রীধারী পেশাদার ডাক্তার থাকেন না! তবে জাহাজের যে কোন সার্টিফিকেটধারী অফিসারকেই একটা "ফার্স্ট এইড" প্রশিক্ষণ কোর্স করতে হয় - এবং পরীক্ষা দিয়ে এই বিষয়ে সার্টিফিকেট হাসিল করতে হয়, যা কি না mandatory। জাহাজে একজন designated মেডিক্যাল অফিসার থাকেন - যিনি হচ্ছেন জাহাজের 2nd mate বা 2nd Officer। জাহাজের Medical Locker বা ডিসপেন্সারী ও (সাধারণত) ১ বেডের হাসপাতালটি তার তত্ত্বাবধানে থাকে। জাহাজে থাকা অবস্থায় নাবিকরা তুলনামূলকভাবে কম রোগাক্রান্ত হয় - আর হলেও তা সাধারণ সর্দি-জ্বর জাতীয় ব্যাপারই হয়। তবে পোর্টে গেলে হয়তো কখনো পেটের অসুখ বা অন্য কোন সংক্রামক রোগ দেখা দিতে পারে। সমুদ্রে কারো অসুস্থতা দেখা দিলে তা প্রথমেই 2nd Officer-এর কাছে রিপোর্ট করতে হয়। অসুস্থতা সাধারণ হলে, 2nd Officer-এর ঔষধ দেয়াতেই তা শেষ হয়ে যায়। তা নাহলে তা ২টি ব্যাপারের একটিতে গড়ায়: (more…)
  • 1
  • 2